দুর্বল কাঠামো শক্তিশালী করার নজর দিচ্ছেন খালেদা জিয়া

সরকারবিরোধী আন্দোলন সফলতা না আসার পেছনে ঘুরেফিরে আসছে বিএনপির দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো। দলটির নেতাকর্মীরা অকপটে এখন সেটি স্বীকারও করছেন। তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপির এই দুর্বলতা আরো স্পষ্ট হয়েছে।

 

ঢাকা ও চট্টগ্রামের কোথাও একটি কেন্দ্রেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভোট জালিয়াতি বিএনপির নেতাকর্মীরা রুখে দিতে পারেননি। ওই নির্বাচনে ভোট বর্জনের পর সবারই ধারণা ছিল নতুন কোনো কর্মসূচি আসছে। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন সেদিকে হাঁটেননি। তিনি আবারো দলের দুর্বল কাঠামো শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছেন।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেতে চেয়েও সাংগঠনিক দুর্বলতায় পারেনি। ঢাকা মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করেও খুব একটা কাজে আসেনি। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে ঢাকায় টানা তিন মাসের আন্দোলনও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

 

সিটি নির্বাচনে সেই দুর্বলতা আরো খোলাসা হয়েছে। বিএনপির এই নাজুক অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আবারো দলকে সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাই-কমান্ড। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ করে ঢাকায় আবারো পরিবর্তন আনার চিন্তা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি নেতৃত্বে কিছু নতুন মুখ আনার কথা ভাবছেন। এক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরের শক্তি বৃদ্ধিতে দুটি ভাগে ভাগ করা শক্তভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে।

 

দলের এক সাংগঠনিক সম্পাদক আরটিএনএন- কে বলেন, ‘নেতাকর্মীদের আত্মগোপন ও নিষ্ক্রিয়তায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। চলমান এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বিএনপির হাই-কমান্ড দলকে সংগঠিত করার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) ইতোমধ্যে নির্দেশনাও দিয়েছেন।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ৭৮টি সাংগঠনিক কমিটিগুলোকে পুনর্বিন্যাস এবং দুর্বল কমিটিগুলোকে ভেঙে দিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন ত্যাগী নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাই-কমান্ড।

 

এর আগেও এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিছু সুবিধাবাদীদের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু এবার আন্দোলনে ভূমিকা দেখে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি অস্বীকার করব না, নির্বাচন ও আন্দোলনে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তবে এজন্য বিএনপির থেকে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশি দায়ী।’

 

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে নেতাকর্মীদের গুম-খুন, কারাবরণ ও নির্যাতনের ভীতি দলের সকল পর্যায়ে অব্যাহত। এই সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সে অবস্থা পরিবর্তনে কাজ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তার বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন।’

 

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আসম হান্নান শাহ বলেন, ‘দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় আবারো কাজ শুরু হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’ তিনি বলেন, ‘মাত্রই নির্বাচন শেষ হয়েছে। বিএনপি সিনিয়র নেতারা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন। নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সামনের কর্মসূচি ও পরবর্তী করণীয় কি হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।