সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে জাতীয় কাউন্সিলের চিন্তাভাবনা বিএনপির

অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। তার আগেই দল গোছানোর কাজে মনযোগ দিচ্ছে দলটি। সে লক্ষ্যে নিয়ে জুন মাসে পুরোদমে শুরু হচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার পর এ উদ্যোগ নিচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী আন্দোলনে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলটির প্রতি সহানুভূতিশীল  বুদ্ধিজীবীরা মনে করছেন, সরকারের দমন-পীড়নের পাশাপাশি দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকটিও আন্দোলন সফল না হওয়ার কারণ ।

 

এক্ষেত্রে আন্দোলন কতটা পরিকল্পিত ছিল, কে কী ভূমিকা রেখেছেন তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। বিএনপি হাইকমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী আন্দোলনের মাঠে, বিশেষ করে ঢাকায় এবারো সঙ্ঘবদ্ধ সাংগঠনিক তৎপরতা তেমন একটা ছিল না। ঢাকা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।

 

গত জানুয়ারিতে আন্দোলন শুরুর দিকে বেশিরভাগ জেলা কমিটি সক্রিয় থাকলেও পরে অনেক জেলায় আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। ১৫-২০টি জেলায় নিয়মিত কর্মসূচি পালিত হলেও বাকি জেলাগুলোতে নেতাকর্মীদের রাজপথে তেমন একটা দেখা যায়নি।

 

অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো জেলার নেতারা আন্দোলন শুরুর পর নিরাপদ স্থানে চলে যান। নেতাকর্মীদের সাথে এরা কোনো যোগাযোগই রাখেননি। জানা গেছে, বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার সবটিতেই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ।

 

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর জেলা কমিটি পুনর্গঠন শুরু হয়েছিল। ফের আন্দোলনে নামার কথা চিন্তা করে তখন ১২টি জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। এখন আবারো দাবি উঠেছে, জেলা কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর, যোগ্যদের দিয়ে কমিটি গঠনের।

 

একই সাথে অন্য অঙ্গসংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তা কাটাতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার দাবি উঠেছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আনতে আগামী কয়েক মাস নানামুখী উদ্যোগ নেবে দলটি। বাধ্য না হলে আপাতত কঠোর কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না দলটি।

 

রমজান থেকে শুরু করে কোরবানি পর্যন্ত সংগঠন গোছানো হবে। এরপর অক্টোবরে হতে পারে দলের ষষ্ঠ চাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিল হলে স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।