গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার আবেদনের বিষয়ে হাই কোর্টে রায় ৫ আগস্ট

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের করা আবেদনের বিষয়ে হাই কোর্টের রায় হবে ৫ আগস্ট। সাত বছর আগে খালেদার করা দুটি রিট আবেদনে হাই কোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আব্দুর রবের বেঞ্চ গত ১৭ জুন বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিল।

 

খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী রবিবার বলেন, “মামলাটি আজ কার্যতালিকায় এসেছে। রায়ের জন্য ৫ অগাস্ট দিন রাখা হয়েছে।

 

দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেঁজগাও থানায় মামলাটি করেন। মামলা করার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে।  পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।

 

মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো।

 

এর তিন দিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয় হাই কোর্ট। মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন ‘বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। তবে হাই কোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়।

 

দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাই কোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।

 

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয়। গত ১৯ এপ্রিল শুরু হয় রুলের শুনানি। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামীও এ মামলার আসামি।

 

খালেদার আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, গ্যাটকো মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত বা দুর্নীতির ‘সুনির্দিষ্ট’ অভিযোগ নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনো দরপত্র অনুমোদনের জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা ‘চলতে পারে না’।

 

রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া ওই চুক্তি থেকে কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন এমন অভিযোগও মামলায় নেই। এক্ষেত্রে তিনি রুলস অব বিজনেস বা রুলস অব প্রসিডিউর ভাঙেননি।

 

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানিতে বলেন, “খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের উপাদান রয়েছে। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে অনুমোদনের কথা বলে পার পাওয়া যায় না।”

 

তিনি বলেন, “ফৌজদারি মামলা নিয়ে এই রিট আবেদন চলতে পারে না। কারণ অপরাধ সংগঠিত হয়েছে কিনা, তা ঘটনাগত বির্তকের বিষয়, এ নিয়ে রিট চলে না। আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) দোষী না নির্দোষ তা বিচারিক আদালতের দেখার বিষয়।”

 

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার বিরুদ্ধে গ্যাটকোসহ তিনটি মামলা হয়। আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে যাওয়ার দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি মামলাগুলো সচল করার উদ্যোগ নেয় দুদক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।