২০-দলীয় জোট আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনি আছে

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনি আছে। জোট নিয়ে কোনো সংশয় নেই।  বুধবার ২০-দলীয় জোটের সভায় শীর্ষ নেতাদের সভায় এ বিষয়গুলো আলোচনা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ ছাড়া ২০-দলীয় জোট নির্দলীয় সরকার ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে যাবে না বলেও সভায় আলোচনা হয়। আজ সকালে জোটের মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের বৈঠক শেষে সভার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
 

সভায় উপস্থিত একটি দলের শীর্ষ নেতা বলেন, বৈঠকে মূলত ২০-দলীয় জোট নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জোটে ভাঙন, জামায়াতের জোট ছাড়াসহ ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এমনকি বিএনপি নেতাদের কেউ কেউও এ নিয়ে কথা বলেছেন। এ পরিস্থিতিতে বৈঠকে ২০-দলীয় জোট ঠিক থাকছে কি না, বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আলোচনা শেষে এ বিভ্রান্তি কেটে গেছে। সবাই জোটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জোটের অপর শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা অবদান রেখেছিলেন, তাদের যেভাবে সম্মানিত করা হয়েছে; বিএনপির সাম্প্রতিক আন্দোলনে যারা অবদান রেখেছেন তাদেরও সেভাবে সম্মানিত করা হবে বলে সভায় একমত হন জোটের নেতারা। পাশাপাশি যারা আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যাপারেও একমত হন তারা। তবে এ বিষয় এখনই কোনো ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়া পরবর্তীতে এ ঘোষণা দিতে পারেন।

 

ওই নেতা আরও বলেন, খালেদা জিয়া অনেক দিন পর দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তাই বৈঠকটি মূলত সৌজন্য বৈঠকের মতো হয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় বৈঠকে আলোচিত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় শিশু নির্যাতন, ব্যাংক কেলেঙ্কারি ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।

 

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কাজী জাফর বলেন,  তিনি চিকিৎসার জন্য যাবেন। তবে কবে যাবেন, তা এখন চূড়ান্ত হয়নি। চোখের চিকিৎসা নিতে আগামী সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপারসনের লন্ডন যাওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভিসা পেতে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন তিনি।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমদ, এলডিপির অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলাম আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূতর্জা, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির ছায়েদুল হাসান ইকবাল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহম্মেদ, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি উপস্থিত ছিলেন।

 

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) টিআইএম ফজলে রাব্বী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও বৈঠকে ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।