দেশ এখন গুম-অপহরণের চারণভূমিতে পরিণত: খালেদা

দেশ এখন গুম-অপহরণের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছেন। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে এটি পাঠানো হয়েছে।

 

এতে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে, আইনকানুন-প্রশাসন এখন আর জবাবদিহীর মধ্যে না থাকায় গুমের শিকার মানুষজনের পরিবারও আজ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।’ ‘৩০ আগস্ট পৃথিবীর দেশে দেশে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হবে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ কঠিন হুমকির সম্মুখীন।’

 

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিক নেতাকর্মীরা বর্তমান অগণতান্ত্রিক-কর্তৃত্ত্ববাদী সরকারের আমলে ব্যাপকভাবে গুমের শিকার হয়েছেন।’ ‘বাংলাদেশে একটি অবাধ নির্বাচনের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে দমন করতে যেয়ে এ সরকারের আমলে শুধু আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য, পৌর মেয়র, অসংখ্য ছাত্র-যুবকর্মী গুম-অপহরণের শিকার হয়েছেন।’

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে গুম-অপহরণ বন্ধে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রতিষ্ঠা ও সব নাগরিকের নিরাপত্তার দাবি সরকার উপেক্ষা করে চলেছে।’ জাতিসংঘ ২০০২-২০০৬ থেকে কাজ করে গুম বিরোধী যে আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করেছে (ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনেস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) তাতে ৪৩টি দেশ সনদটি গ্রহণ করে এবং ৯৩টি দেশ অনুস্বাক্ষর করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গুম হতে সকলের সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক এই সনদটি গ্রহণও করেনি, এমনকি অনুস্বাক্ষর না করায় দেশ এখন গুম-অপহরণের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমরা জানি, গুম-আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ২০০২ (রোম স্ট্যাটুট) এর অধীনেও অপরাধ। কোনো দেশে যদি এই রোম স্ট্যাটুটের অধীন অপরাধের বিচার না হয়, তাহলে রোমে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিচারের ব্যবস্থা করতে পারবেন।’গুম-অপহরণ বন্ধে জাতিসংঘের সনদটি অনুস্বাক্ষর করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন নাৎসী জার্মানি, সেন্ট্রাল আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে স্বৈরশাসকেরা এক সময় যেভাবে গুম ও গুপ্ত হত্যার হোতারুপে আবির্ভূত হতেন, তাদের অনুসারিদের মতো আচরণ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।