মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জরিপ প্রতিবেদন সাংঘর্ষিক

‘সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে’ বলে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) জরিপ প্রতিবেদনকে ‘সাংঘর্ষিক’ বলে দাবি করেছে বিএনপি। বিএনপি বলছে, যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে তাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে হবে। নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ দাবি করেন।

 

রিপন বলেন, এই জরিপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে রায় এসেছে। আবার সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলেও বলা হয়েছে। ‘আমরা বলতে চাই, যদি মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়, তাহলে যে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ে কীভাবে?’

 

এই প্রশ্ন রেখে রিপন বলেন, একই সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন বলেও জরিপে উঠে এসেছে। তার মানে আগের নির্বাচন সঠিক হয়নি। সুতরাং তাদের জরিপ সাংঘর্ষিক।

 

মার্কিন ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না উল্লেখ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, যে সরকারের সময়ে দেশে আইনের শাসন নেই, প্রতিদিনিই খুন, গুম, নারী নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্ছনার মতো ঘটনা ঘটছে। সেই পরিস্থিতিতে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ে কীভাবে তা বোধগম্য নয়।

 

একই সঙ্গে জরিপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাড়ার প্রসঙ্গ টেনে রিপন বলেন, দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় তার (প্রধানমন্ত্রী) গ্রহণযোগ্যতার কোনো অবকাশ থাকে না।

 

তিনি বলেন, ‘সরকারের জনপ্রিয়তা প্রমাণের মানদণ্ড হচ্ছে অবাধ নির্বাচন। আশা করি তারা ছিনিয়ে নেওয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে। এর মাধ্যমে প্রমাণ করবে, তাদের জনপ্রিয়তা আছে কি না। জনপ্রিয়তা বাড়লে অবাধ নির্বাচন দিতে তাদের ভয় কিসের। আমরা জনগণের চাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

জরিপের ফলাফলে বিএনপিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, এই জরিপ নিয়ে শুধু দলের নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন থাকবে। সুতরাং এতে কোনোই প্রভাব পড়বে না এবং নেতাকর্মীরা হতাশ হবে না।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক আফজাল এইচ খান, সহআইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধূরী, গণশিক্ষা সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র বিষয়ক মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে বলেছে, নির্বাচনের বিষয়ে দেশে রাজনৈতিক বিভাজন অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থন বেড়েছে।

 

দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লোকজনের মনোভাব ইতিবাচক, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা আশাবাদী। তবে তাদের কাছে দুর্নীতি এখনও সবচেয়ে উদ্বেগের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।