দেশে আবারো গুম-খুনের প্রকোপ শুরু হয়েছে: বিএনপি

দেশে আবারো গুম-খুনের ‘প্রকোপ’ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সম্প্রতি রাজশাহীর চাঁপাই নবাবগঞ্জের ৬ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাদের আদালতে পাঠানো হয়নি জানিয়ে তাদের সবাইকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ারও দাবি করেছে দলটি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলের মুখপাত্র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

 

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের ক্যাডার আরজু মিয়ার ক্রসফায়ারের ঘটনার পরপরই আমরা এ ব্যাপারে আমাদের (বিএনপি) আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, সরকারি দলের ক্যাডারদের লোক দেখানো কয়েকটি ক্রস ফায়ারের পর তারা বিরোধীদল দমনে একে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। আমাদের সে আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়েছে।’

 

 

রিপন বলেন, ‘মহাজোট সরাকরের দোসর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সাবেক স্বৈরাচার এইচ এম এরশাদ গতকাল (রবিবার) বলেছেন, ‘দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত। চারদিকে শুধু আতঙ্ক’।’ ‘আমরা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। তাই তার নাম আমরা মুখে আনতে চাই না। এরপরও যেহেতু তিনি সরকারের অংশীদার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও মন্ত্রীর মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী; তার এ বক্তব্য এবং তার দায় এড়াতে পারেন না প্রধানমন্ত্রী ও সরকার।’

 

ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘সরকারের অংশীদার যখন অভিযোগ তোলে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিৎ। এরশাদ যে অভিযোগ করেছেন সেই অভিযোগ থেকে সরকার বাঁচতে পারবে না।’ ‘সরকার প্রধানের বিশেষ দূত হিসেবে সব সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন এরশাদ। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি বলেছেন, ‘দেশে অন্ধকার যুগ চলছে, ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। দেশে কেউ নিরাপদ নয়। কেউ প্রতিবাদ করলেই পরদিন গুম হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি যখন এমন কথা বলেন, তা নিবন্ধিত হয়ে যায়। যেসব অভিযোগ বিএনপি আগ থেকেই করে আসছে।’

 

২২, ২৩ ও ৩০ আগস্ট ঢাকা ও রাজশাহীর মুন্ডুমালা থেকে রাজশাহী বিএনপির ছয় নেতাকে আটকের পর নিখোঁজ ও এক নেতার ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে রিপন বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের গুম ও অপহরণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে মহড়া চলছে এই আশঙ্কা আমরা আগেই করেছিলাম। আমাদের সেই আশঙ্কাটাই সরকার এখন বাস্তবায়ন করছে।’

 

তিনি বলেন, ‘২২ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পথে রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা থেকে আব্দুল লতিফের ছেলে বিএনপি কর্মী রব্বানী, শমসের আলীর ছেলে আবু আলী ও কাউসার আলীর ছেলে নুরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

 

এরপর গত ২৩ আগস্ট একই স্থান থেকে এনামুল হকের ছেলে আপেল, ও ৩০ আগস্ট শাহাবুদ্দিনের ছেলে বাবু এবং ফজলু মোল্লার ছেলে টুটুলকে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটি ইউনিয়নে।’ অবিলম্বে এসব নেতাকর্মীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করে রিপন এ ধরনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি করেন।

 

বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন আরো বলেন, ‘ইউরোপের একজন শিশু আয়লান সারা বিশ্বকে নাড়া দিলেও বাংলাদেশে মায়ের গর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সরকারকে নাড়া দেয়নি। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’

 

দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দাবি করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘গণমাধ্যমসহ কোনো প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে ভীতির বাইরে কাজ করতে পারছেন না। সামরিক মার্শাল ল’ সরকার যতটা সহ্য করতো বর্তমান সরকার তাও করে না। প্রতিবাদ করলেই গুম, গুলি করছে।’

 

তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতকর্মীদেরকে আটকের দুই তিন মাস পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এটা সংবিধান স্বীকৃত নয়। এসব অধিকার সংবিধানে দেওয়া নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসব কাজ করে যাচ্ছেন।’ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাম্মী আক্তার প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।