দুর্নীতি মামলায় খালেদার আত্মসমর্পণ, কড়া নিরাপত্তা

দুদকের দায়ের করা নাইকো দুর্নীতি মামলায় আজ আদালতে হাজির হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জানিয়েছেন, পুরান ঢাকায় স্থাপিত নিম্নআদালতে আত্মসমর্পণ করে খালেদা জিয়া জামিনের আবেদন করবেন।

 

তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সোমবার নিম্নআদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করবেন। ইতোমধ্যে সোমবারের জন্য নাইকো মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ওকালতনামায় খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ বিচারাধীন।

 

খালেদা জিয়ার আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে ঢাকার জজ কোর্ট এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালত এলাকার চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবের একাধিক দল তৎপর রয়েছে।

 

গত ২৮ জুন নাইকো মামলা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়া আবেদন খারিজ বাতিল করে দেয় বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে রায় পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আদালত।

 

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তি করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩,৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে দুদক।

 

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

 

দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপ-পরিচালক) এস এম সাহিদুর রহমান তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।

 

পরে এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।