মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ছে না

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬৫ করার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি মন্ত্রিসভা। তবে, সচিবালয়ে সোমবারের বৈঠকে ‘জাতীয় ই-সেবা আইন-২০১৫’র খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বেঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি করে ৬৫ করার প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নাকচ করে দিয়েছে মন্ত্রিসভা।’ ‘এই সরকারই মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করেছে। কিন্তু বয়স বাড়ানোর বিষয়টি এবার মন্ত্রিসভায় বিবেচিত হয়নি।’

 

গতবছর নভেম্বরে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একটি রায়ের ধারাবাহিকতায় সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অবসরের বয়স বাড়ানোর এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০০৬ সালের ১২ জুলাই এক স্মারকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ বছর বাড়িয়ে ৬৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ওই নির্দেশনা প্রতিপালন না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন শিকদার ২০১৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

 

এ বিষয়ে শুনানি করে আদালত রুল জারি করে। সরকারি স্মারকের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা কেন ৬৫ বছর করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। আরো ৬৮০ মুক্তিযোদ্ধা রিটে পক্ষভুক্ত হন।

 

রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতবছর ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ওই প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেয় আদালত।

 

রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে গেলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তুলতে বলে।

 

মন্ত্রিসভার আজকের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ার একটি সমাপ্তি হলো।

 

এদিকে, এই মামলা চলার মধ্যেই গত সরকারের মেয়াদে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করা হয়। তখন সরকারের অন্য কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর, যা পরে ৫৯ বছর করা হয়।

 

এই প্রেক্ষাপটে আরো একটি রিট আবেদন হলে ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা আরো এক বছর বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৬০ বছর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।