হাসিনা ভদ্র ভাষা জানেন না: খালেদা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি ভদ্র ব্যবহারও করেন না, ভদ্র ভাষায়ও কথা বলতে জানেন না। শুধু ভদ্র ভাষাই নয়, এমন সব অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন, সেগুলো আমাদের সকলের জন্য লজ্জার ও অপমানের। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলেন আর হাসিনা বলেন, এরা ভালো আচরণ করতে জানে না। এদের মধ্যে কোনো সুন্দর ভাষা নেই। যাদের মুখে ভদ্র ভাষা নেই, তারা মানুষের সঙ্গে কেমন করে ভদ্র-সুন্দর আচরণ করবে?’

 

বিএনপির শীর্ষ দুই পদে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে একদিন আগেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দুজনই আসামি … ’ ‘একজন এতিমের টাকা চুরি করার মামলার আসামি, আরেকজন তো ২১ অগাস্ট মামলার পলাতক আসামি, তার নাম ইন্টারপোলে ওয়ান্টেড তালিকায় আছে।’

 

প্রধানমন্ত্রীর ওই কথাকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ আখ্যায়িত করে মঙ্গলবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

 

রাতে মহিলা দলের নেতারা নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে এলে তাদের উদ্দেশে বক্তব্যেও ওই প্রসঙ্গ আনেন বিএনপি চেয়ারপারসন। শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জোর-জবরদখল করে হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদটা দখল করে আছেন।’ তাদের এদিনের কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে।

 

খালেদা বলেন, ‘এই বিশ্ব নারী দিবসেও আমাদের প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয় না। কোনো হলও দিতে চায় না, আমরা প্রোগ্রাম করতে পারি না। এই যে একটা অবরুদ্ধ অবস্থা দেশটাকে করে রেখেছে। গণতন্ত্রহীন অবস্থায় এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা যখন পত্রিকায় আসে, তখন আমাদেরই লজ্জা করে। বিদেশিরা এগুলো নিয়ে নানারকম কটূক্তি করে, সমালোচনা করে- এটা মোটেই কোনো ভালো জিনিস নয়।’

 

রাষ্ট্র পরিচালনায় আওয়ামী লীগের ব্যর্থতায় নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। ‘দুর্নীতি ও এসব খারাপ কাজ মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষের চিন্তা-ধারণা নষ্ট করে দিয়েছে।’

 

খালেদা বলেন, বর্তমানে নারীরা নিজের বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, রাস্তা-ঘাট ও নিজের পেশাস্থল কোথাও নিরাপদ নয়। ‘পুলিশ সদস্যদের বলব, আপনাদের মা-বোন আছে। সেটা চিন্তা করে অন্যদের মা-বোনদের সম্মান দিয়ে এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।’

 

মহিলা দলের ফুল নিয়ে খালেদা বলেন, ‘এত ফুল এনেছেন! মহিলারা ফুলের মতোই সুন্দর ও পবিত্র। মহিলাদের সম্মান দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে নারী উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তার স্ত্রী খালেদা বলেন, ‘তিনিই পুলিশ, আনসার বাহিনীতে প্রথম নারীদের নিয়োগ করেছেন। বিদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মহিলাদের নিয়োগও তিনিই প্রথম শুরু করেন।’

 

অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের দেখিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটিতে শুধু মহিলারাই আছেন। আমি পুরুষ-ছেলে কাউকে এলাউ করিনি। কেবল মহাসচিব আছেন। কিছু কিছু মহিলা সাংবাদিক দেখতে পাচ্ছি। আমরা মনে করি, এই পেশায় আরও বেশি করে মহিলাদের আসা উচিত।

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এই দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।