বিএনপির কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন খালেদা

‘দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন কাউন্সিলের প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

 

শনিবার সাড়ে ১০ টা ৫০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রাজধানী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন খালেদা জিয়া।

 

এ সময় বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দেশের প্রতিটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পশ্চিম পাশে স্থাপিত দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

এর আগে সকাল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে দলে দলে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজধানী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে আসতে থাকেন।

 

হাতে হাতে ব্যানার-ফেস্টুনসহ দলের এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাউন্সিলস্থলে জড়ো হয়ে কাউন্সিল সফল করার স্লোগান দেন। পুরো কাউন্সিল এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে।

 

মঞ্চে উপস্থিত আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, নজরুল ইসলাম খান, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান প্রমুখ।

 

কাউন্সিল উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছাসহ ব্যানার, পোস্টার দেখা যচ্ছে। দলের ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, ওলামা দল, তাঁতী দল, মত্স্যজীবী দল, জাসাসও আলাদা স্লোগানে পোস্টার প্রকাশ করে সারা ঢাকায় সেঁটেছে।

 

মূল ভেন্যু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রং-কে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো সন্মেলনস্থল। চারপাশে উঁচু ছাউনি দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে।

 

কাউন্সিল এলাকার কড়া নিরাপত্তায় নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী, সিসি টিভি, আর্চওয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনটি মঞ্চের একটিতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিবেন। সেখানে আছেল দলের শীর্ষ নেতারা। দ্বিতীয় মঞ্চটিতে আছেন শিল্পীরা। আর তৃতীয় মঞ্চটি সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এক ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য রাখবেন। এ বক্তব্যে আগামী দিনের দলীয় রাজনীতির দিক-নির্দেশনা থাকবে। এবারের কাউন্সিলে ত্যাগী, যোগ্য, পরিশ্রমী ও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় নেতাদের দলের বিভিন্ন পদে বসানো হবে।

 

১৩ দিন আগে গত ৬ মার্চ দলের চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন । কাউন্সিলের দিন আর কোনো পদে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল নেতারা।

 

এবারের কাউন্সিলে ৩১০০ কাউন্সিলর, ৮ থেকে ৯ হাজার ডেলিগেট, আমন্ত্রিত অতিথি, বিদেশি মেহমান ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী মিলে প্রায় ৫০ হাজার লোকের সমাবেশ লক্ষ্য ছিল বিএনপির।

 

সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল। ওই কাউন্সিলের কয়েকদিন আগে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। কাউন্সিলের দিন তারেক রহমানকে করা হয় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। স্থায়ী কমিটির নাম ঘোষণা করা হয় কয়েকদিন পর।

 

এবারের কাউন্সিল সামনে রেখে গঠনতন্ত্রে দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়। এসব প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে আলোচনা ও কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান ১৭ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ জন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আছেন ছয়জন করে। তা বাড়িয়ে ৮ থেকে ১১ জন করে করা হতে পারে। নির্বাহী কমিটির সদস্যসংখ্যাও বাড়বে।

 

তবে স্থায়ী কমিটি ও যুগ্ম মহাসচিব পদে বর্তমান সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। এর বাইরে ক্ষুদ্রঋণ-বিষয়ক একটি সম্পাদক বা এ বিষয়ক একটি উপ-কমিটি সৃষ্টি করা হবে। গবেষণার জন্যও গঠন করা হবে আলাদা উপ-কমিটি। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটি গঠন করা ও ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিতে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। অতিরিক্ত মহাসচিব পদ সৃষ্টির বিষয়টি কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।