স্বাধীনতা পদক নিলেন ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবময় ও অসামান্য কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক ২০১৬’  পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এবারের পুরস্কারজয়ী এবং তাদের প্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা তুলে দেন।

 

এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে- ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সংগঠক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

 

মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ১৯৭১ সালে ভারতের মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প, অপারেশন ক্যাম্প ও শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক।

 

সফল রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম মৌলভী আসমত আলী খান।

 

সুপারসনিক এয়ারক্রাফট এফ-৬ এর সফল পাইলট এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স গঠন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম বীরউত্তম।

 

১৯৭১ সালে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক রাজশাহী পুলিশ লাইনস্ আক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ ফোর্স সংগঠনে নেতৃত্বদানকারী শহিদ শাহ্ আব্দুল মজিদ।

 

রাঙামাটিতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে নেতৃত্বদানের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শাহাদতবরণকারী রাঙামাটির তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম আবদুল আলী।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তান হাইকমিশন, লন্ডনে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান স্বহস্তে লেখক মরহুম এ কে এম আবদুর রউফ।

 

১৯৭১ সালে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত থাকাকালে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রথম মিশন স্থাপনকারী কে এম শিহাব উদ্দিন।

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার স্বপক্ষে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী সৈয়দ হাসান ইমাম।

 

মাতৃভাষা ক্ষেত্রে- একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মরহুম রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে- কৃষি গবেষক এবং তোষা পাট ও দেশি পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কারক মরহুম অধ্যাপক ড. মাকসুদুল আলম। চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে- প্রথিতযশা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রফি খান (এম আর খান)। সংস্কৃতি ক্ষেত্রে- কবি নির্মলেন্দু গুণ  এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

 

এ ছাড়া সরকার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দেশের জলসীমায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলস দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।