সরাদেশে জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে

সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হরতাল চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

 

হরতালের সমর্থনে রাজধানীর মালিবাগ, যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের মিছিল করার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করেছে রমনা থানা জামায়াত। একই দাবিতে হরতালের সমর্থনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা।

 

যাত্রাবাড়ীর ঢাকা চট্টগ্রাম রোড়ের মাতুয়াইল মেডিকেলের চৌরাস্তায় মিছিল করে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা। এদিকে সকাল সাড়ে সাতটায় হরতালের সমর্থনে রাজধানীর কদমতলী থানার পাঠের বাগে মিছিল করেন জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা।

 

জামায়াতের ডাকা হরতাল সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াত ইসলামী পল্লবী থানা। একই দাবিতে জামায়াতের ডাকা হরতাল সমর্থনে রাজধানীর রামপুরায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব।

 

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক মুসলিম দেশেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রয়েছে। জনগণের পক্ষ থেকে এমন কোনো দাবি ওঠেনি যে, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে হবে। সরকার যদি সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ‘বাদ দেওয়ার উদ্যোগ’ গ্রহণ করে, তাহলে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তা কখনো মেনে নেবে না’।

 

তিনি বলেন, ‘হাতে গোনা কতিপয় রাষ্ট্র ও ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য সরকার যদি সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তা কখনো মেনে নিবে না।’

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যে সব ব্যক্তি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে যুক্তি দেখাচ্ছেন তা মোটেই গ্রহণ যোগ্য নয়। বরং ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার অনেক দেশেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বহু মানুষের জানমাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকার পরও এদেশে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। বাংলাদেশে কখনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় না।’

 

জামায়াত নেতা বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানগণ সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। দেশের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিগণ সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে এর কোনো প্রমাণ নেই।’

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সাথে এ দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি জড়িত। এ আবেগ-অনুভূতিকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে তা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

 

‘তাই সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর চক্রান্তেরর প্রতিবাদে এ দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২৮ মার্চ সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল আহ্বান করছি।’

 

তবে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।

 

এদিকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানিও হবে সোমবার। আজ দুপুর ২টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।