দ্বিতীয় ধাপের প্রচার শেষ হচ্ছে আজ, ভোট বৃহস্পতিবার

প্রথম দফা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও ২৭ জনের প্রাণহানির পর দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার মধ্যরাতে। শেষ মুহূর্তে প্রচারে চলছে প্রার্থীদের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক।

 

তবে প্রথম ধাপের সহিংসতাপূর্ণ ইউপি নির্বাচনের পর দ্বিতীয় ধাপের জন্য প্রায় একই ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধাপের জন্য বাড়তি কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

 

নানা শঙ্কা, হামলা ও সহিংসতার মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ৬৪৩টি ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪৭ জেলায় ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠিয়েছে কমিশন। এসব ইউপিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্বাচনী এলাকায় নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনী অপরাধের সাজা দিতে তাদের সাথে থাকছে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনী এলাকায় সোমবার মধ্যরাত থেকেই মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইসি সচিবালয়ের উপসচিব সামসুল আলম বলেন, দ্বিতীয় ধাপের ৬৪৩টি ইউপি নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরতি সদস্য পদের জন্য প্রায় চার কোটি ব্যালট পেপার জেলা নির্বাচন অফিসে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার থেকে মাঠে নামছে। এ ছাড়া নির্বাচনী অপরাধের সাজা দিতে সাথে থাকছে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

 

ভোটের দিন এগিয়ে আসার সাথে সাথেই সহিংসতা বেড়েই চলেছে। দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন নিয়ে অনেক এলাকায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবর আসছে।

 

ক্ষমতাসীনদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাঁচ শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে ইসিতে। লিখিতভাবে ইসিতে কী অভিযোগ এলো, গোলযোগ-সংঘর্ষ কোথায় কোথায় হয়েছে তার কোনো তথ্য ইসি সংরণ করছে না।

 

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় ধাপেও আওয়ামী লীগের ৩১ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে ৬৪৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ২৬৮৪ জন। এর মধ্যে ১৭টি রাজনৈতিক দলের ১৫০৭ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১১৭৭ জন।

 

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন জানায়, ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপে ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। ৩৬টি জেলায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৩২ টিতেই সহিংসতা, অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের দিনেই সহিংসতায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। সহস্রাধিক আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৭ জন। আহত তিন হাজারের বেশি।

 

সুজন জানায়, মোট ৭০৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫২৭টিতে আওয়ামী লীগ, ৫৩টিতে বিএনপি এবং ১১০টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

 

সুজন বলছে, এই ধরনের ফলাফলের প্রধান কারণ একটি প্রভাবিত ও দখলদারিত্বমূলক নির্বাচন। এছাড়াও নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে পুরো নির্বাচন জুড়েই ‘লেভেল প্লেয়িং’ অবস্থান থেকে কাজ করতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১২১ টি ইউনিয়ন ছিল বিএনপি প্রার্থীশূণ্য।

 

সংস্থাটির মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল ভোটারদের কাছে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, বিএনপির কাছে তেমনি হতাশার। নির্বাচনের এই ধারা চলতে থাকলে দলটি ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

 

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৩ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ৭ মে, পঞ্চম ধাপে ২৮ মে ও ষষ্ঠ ধাপে ৪ জুন ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।