শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান খালেদা-ফখরুল

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপি শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না- তা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন।

 

তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থেকে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

 

রবিরার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে তারা এই মত দিয়েছেন। এখনো নির্বাচনে থাকা বা বর্জন নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় তিনঘণ্টা ব্যাপী বৈঠকে নেতারা নির্বাচনে থাকা না থাকার পক্ষে যুক্তি ও মতামত ব্যক্ত করেছেন।

 

বৈঠক সূত্র জানায়, সোমবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং থানা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনে থাকা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

ইতোমধ্যে ইউপি নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে বিএনপি।

 

তবে দলটির অভিযোগ, সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেয়া, হুমকি ধামকি দেয়া এবং কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতি করে জয় ছিনিয়ে নিচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচনে থাকা না থাকা নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলীয় প্রধান এক রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নির্বাচন বর্জনের।

 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলী, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে ইউপি নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।

 

বৈঠকের একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে একটি মাত্র এজেন্ডা ছিল। তা হলো ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থাকবে কি না। দলের নেতারা এ বিষয়ে নিজেদের মত ও যুক্তি দিয়েছেন। নির্বাচনের থাকার পক্ষে বিপক্ষে মত এসেছে, তর্ক বিতর্ক হয়েছে।

 

তবে নির্বাচনে থাকার পক্ষেই বেশিরভাগ নেতা নিজেদের মত ও যুক্তি দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে তিনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে ছিলেন এমন একজন নেতা বলেন, ইউপি নির্বাচন বর্জন করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সোমবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

 

সূত্র জানায়, এই বৈঠকে দলের নেতাদের কাউকে মুঠোফোন নিয়ে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সবাই বাইরে মুঠোফোনগুলো রেখে সভায় অংশ নেন।

 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ার‌ম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউছুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদনি, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মো. শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।