সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে

বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তার মতো ঋজু ও আত্মশক্তিতে বলিয়ান কলমযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে পর্যদুস্ত করা যাবে না। তিনি অবিলম্বে শফিক রেহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ২০১৫ সালে দায়ের করা একটি মামলায় শফিক রেহমানকে শনিবার সকালে তার ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

 

এর নিন্দা জানিয়ে শনিবার এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার কষ্টার্জিত বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধে এখন যুদ্ধ শুরু করেছে। সরকারের অপকীর্তি ও লাগামহীন দুর্নীতির কারণে পায়ের নীচের মাটি সরে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে দেশকে নিক্ষেপ করা হচ্ছে এক ভয়ংকর অতল গভীর খাদে। মানুষের ভোটাধিকার হরণের পর বাকস্বাধীনতাও কেড়ে নেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে তাদের ওপর চলছে দলনপীড়ন।’

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশের প্রতিথযশা সাংবাদিক ও সম্পাদকদেরও গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। অনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের স্পষ্টভাষী ও সত্য উচ্চারণে অকুণ্ঠ বিদ্বৎজনদেরকেও নির্মূলের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তার পছন্দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্যদের দিয়ে।’

 

‘তাদের সেই দুরভিসন্ধি ও নির্মম আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো অশীতিপর, দুর্জয় সাহসী সাংবাদিক ও কলামিষ্ট শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এজন্য যে, তিনি বর্তমান শাসগোষ্ঠীর অনাচার, ব্যর্থতা ও কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে অবিচল নির্ভয়ে লিখে যান। এই ঘৃণ্য অপকর্মটি করার আরেকটি কাণ হলো-বর্তমান সরকার প্রধানের গণবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী নীতি শফিক রেহমান তার শাণিত লেখনির দ্বারা ফুটিয়ে তোলেন। শফিক রেহমান সত্য উচ্চারণে অবিচল ও সাহসী এক কলমযোদ্ধা। সেই কারণে তাকে কব্জা করতে না পেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটি সরকারের চরম স্বেচ্ছাচারিতারই বহিঃপ্রকাশ।’

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে আজ সম্মানী ব্যক্তি ও সুধীজনদের মানহানি, গ্রেপ্তার করে কণ্ঠরোধ এবং নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের নির্বাক করার হীন অপচেষ্টার কোনো অন্ত নেই। এটাই বর্তমান সরকারের সাধারণ বৈশিষ্ট। আমি বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই-মামলা, হামলা, খুন, জখম, গুম, অপহরণসহ নানাবিধ বিভৎস অনাচার ঢাকতেই আপনারা শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করেছেন। এর প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা।’

 

আমি আরো দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই-বাক, ব্যক্তি, লেখনি, ভাষণ, মুদ্রণের স্বাধীনতাসহ জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করবেন না। আপনি কখনোই শফিক রেহমানের মতো ঋজু ও আত্মশক্তিতে বলিয়ান কলমযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে পর্যদুস্ত করতে পারবেন না। কারণ আপনার সরকার আজ গণবিচ্ছিন্ন ও জনগণের শত্রুপক্ষ। আমি অবিলম্বে দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’

 

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন গতরাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তাদের পছন্দ নয়। তাই সম্পূর্ণ রাজনেতিক প্রতিহিংসায় তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করছে। একদলীয় শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই দীর্ঘ এক বছর কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা মেয়র মান্নানকে সাজানো মিথ্যা মামলায় আবারো গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।