অরাজকতায় নিপতিত বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী জঙ্গিরা ২০১৩ সাল থেকে ২০ জনের বেশি লোককে হত্যা করেছে, যাদের অনেককেই কুপিয়ে মারা হয়েছে। প্রথম যারা নিহত হন তারা ছিলেন ইসলামী মৌলবাদের সমালোচক ব্লগার। এরপর দুজন বিদেশিকে, যাদের একজন ইতালীয় সাহায্যকর্মী এবং একজন জাপানি কৃষিবিদ, হত্যা করা হয় গতবছর। গতমাসে শুধু নয়দিনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং তার ঘোর বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতকে এজন্য অংশত দায়ী করা হচ্ছে।

 

২০১৪ সালে বিরোধী দলের বজর্ন ও সহিংসতার মধ্যে শেখ হাসিনা এবং তার দল নির্বাচনে জয়ী হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্মমতার জন্য দায়ীদের বিচারে ২০১০ সালে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় তা সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এতে টার্গেট করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের। এর পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং গুমের ঘটনায় আইনের শাসনের ওপর বিশ্বাসে ক্ষয় ধরেছে।

 

ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনার সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যম দমন করেছে। গত মাসে শেখ হাসিনা নাস্তিক ব্লগারদের নিন্দা করে বলেন, ‘ কেউ আমাদের নবী বা অন্য ধর্ম বিরুদ্ধে লেখলে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।’

 

এসবের ফলে চরমপন্থা মাথাচাড়া দিচ্ছে। সংঘাত নিরসনে কাজ করা স্বাধীন সংস্থা ‘দা ইন্টারন্যাশনল ক্রাইসিস গ্রুপ’  হুঁশিয়ার করে দিয়েছে  যে ‘সরকারের কঠোর পদক্ষেপে তারা বৈধতা হারাচ্ছে এবং সহিংস পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে সহিংস রাজনৈতিক সংগঠন এবং চরমপন্থী গ্রুপগুলো উপকৃত হচ্ছে।’

 

গত ৬ এপ্রিল আইনের ছাত্র নাজিমউদ্দিন সামাদকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার সহযোগী আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ।  অন্যদিকে ৩০ এপ্রিল হিন্দু টেইলর নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দারকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। তবে শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে।

 

২৫ এপ্রিল মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং সমকামী আন্দোলনের নেতা জুলহাজ মান্নানকে হত্যার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ হত্যার তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

 

শেখ হাসিনার সরকারের উচিত এই সমর্থনকে স্বাগত জানানো।  হামলাকারীদের তেমন কাউকে বিচারের আওতায় আনা  হয়নি বলে দায়মুক্তির পরিবেশ  বিরাজ করছে। যারা টার্গেট হতে পারে তাদেরকে সরকারের অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর বিশ্বাস পুনর্বহাল করতে হবে। এটা করতে ব্যর্থ হলে বিশৃঙ্খলায় নিপতিত হওয়ার গতিই বাড়বে শুধু।

 

সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সম্পাদকীয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।