পঞ্চম ধাপে নির্বাচনী সহিংসতায় ঝরল আরো সাত প্রাণ

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শনিবার চার জেলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে মারা গেছে ছয়জন। এছাড়া একজন বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সংঘর্ষে ১১ জন গুলিবিদ্ধ অন্তত ১০০ লোক আহত হয়েছে।

 

প্রথমবারের দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে এসব মৃত্যুর খবর এলো।  এর আগে ইউপি নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় আরো শতাধিক লোক নিহত এবং আট হাজারের বেশি লোক আহত হয়েছে।

 

শনিবার দেশের ৪০টি জেলায় ৭১৭টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এখন চলছে ভোট গণনা। তবে ভোটগ্রহণের আগে থেকেই কারচুপি ও সহিংসতা শুরু হয়।

 

এরফলে বেশ অন্তত ৭০ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্তত ৪০ চেয়ারম্যান প্রার্থী কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তলে ভোট বর্জন করেছেন।

 

জামালপুরে নিহত চার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।

 

শনিবার সকালে উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খোটারচর ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শেখপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মাজেদ, একই গ্রামের সাত্তারের ছেলের নুরুল ইসলাম (২০), পুতুবের চর গ্রামের আমজাদ হাজির ছেলে নবম শ্রেণির নবীরুল ইসলাম ও একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জিয়া (২৫)।

 

সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচ পুলিশ ও এক আনসার সদস্য রয়েছেন।

 

গুলিবিদ্ধ ৫ জন হলেন- আফতাব, মাহমুদুর, খুদু মিয়া, সখিজল শফিক, জাকিউল। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জামালপুর হাসাপতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

নোয়াখালীতে নিহত এক

 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। নিহত সৈয়দ আহমদ (৬৫) নামে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক বলে জানা গেছে।

 

শনিবার সকালে পঞ্চম দফায় ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় ইউনিয়নের রাজগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র দখল করে গেলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও একই দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এসময় অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

চট্টগ্রামে মেম্বার প্রার্থী নিহত

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কর্ণফুলী থানার বড়উঠান ইউনিয়নে মো.ইয়াছিন নামে এক মেম্বার প্রার্থী ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার দুপুর ১টার দিকে বড়উঠান ইউনিয়নের শাহ মীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নিহত ইয়াছিন বড়উঠান ইউনিয়নের ৬ নম্বর শাহ মীরপুর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে প্রার্থী ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে কর্তব্যরত এস আই জহিরুল ইসলাম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিন নামে একজনকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এছাড়া শরীফ (৩২) ও আলম (২০) নামে দুজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও তিনি জানান।

 

কুমিল্লায় গুলিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহত

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং পঞ্চম ধাপে ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামালউদ্দিনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ওই ইউনিয়নের নাগেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

 

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন প্রাথমিকভাবে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।