আজ শহীদ জিয়ার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, অসমসাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি।

 

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলের সকল অঙ্গ সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে।

 

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দরিদ্রদের মধ্যে কাঙালি ভোজ, রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।

 

জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে। তার শৈশবের কিছুদিন কাটে বগুড়া ও কলকাতায়। ভারত বিভাগের পর রসায়নবিদ পিতার বদলির সুবাদে তিনি করাচি যান। করাচির একাডেমি স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৫৩ সালে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন কাবুল মিলিটারি একাডেমিতে। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদ লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে লাহোর সীমান্তের খেমকারান সেক্টরে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ভারতের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেয়া হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক উপাধি।

 

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর তার নেতৃত্বে অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে এবং যুদ্ধকালে প্রথমে তিনি সেক্টর কমান্ডার ও পরে জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বীরউত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

 

১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট নিযুক্ত হন চিফ অব আর্মি স্টাফ পদে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলে ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তিনি প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। এরপর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি-বিএনপি, যে দলটি বাংলাদেশের বৃহত্তম দুটিচ রাজনৈতিক দলের একটি এবং বারবার ক্ষমতায় গিয়েছে।

 

কর্মসূচি

বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন এক বিবৃতিতে জানান, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৬টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একইভাবে সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করা হবে।

 

সকাল ১০টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শেরেবাংলা নগরস্থ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজারে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

 

এছাড়া, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ড্যাব-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ওষুধ বিতরণ করা হবে। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

বাদ জোহর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে ড্যাব। এছাড়া, ঢাকা মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ জিয়ার অম্লান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির নিশ্চয়তা। জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাত কঠিন গণ ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

 

তিনি বলেন, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তির ক্রমাগত বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণের পটভূমিতে তার অম্লান স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে এবার ৩০ মে মহান নেতার শাহাদতবার্ষিকী সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহসহ সকল স্তরের জনগণের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।