পার্বত্য চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

রাঙামাটিসহ তিন পারবত্য জেলায় রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা দিয়েছে পাহাড়ের বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচটি সংগঠন। পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কর্তৃক আয়োজিত বৈঠক ঠেকাতে এ হরতালের ঘোষণা দেয়া হয়। এদিকে বাঙালিদের সঙ্গে একাট্টা হয়ে মাঠে নামতে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করেছে অত্রাঞ্চলের বাঙালিরা। পার্বত্য ভূমি রক্ষা আন্দোলন নামীয় এই সংগঠনের আত্ম প্রকাশ করা হয় শনিবার সকালে।

স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিদের ভূমি রক্ষায় ওই সংগঠন গঠন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না।

এ সময় সংগঠনের নেতা অ্যাডভোকেট আবছার আলী, জাহাঙ্গীর কামাল, কাজী জালোয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের পর পাহাড়ে নতুন করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠক আহ্বান করায় ওই বৈঠক ঠেকাতে রোববার রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় হরতাল আহ্বান করে রাজপথে অবস্থান নিয়ে যেকোনো মূল্যে ভূমি কমিশনের বৈঠক ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে বাঙালিদের পাচঁটি সংগঠন।

ঢাকা থেকে সংবাদ মাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এবং রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকে পার্বত্যবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছে পার্বত্য গণপরিষদের নেতৃবৃন্দ।

ওই সংগঠনটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগণকে উচ্ছেদের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন  ২০০১ (২০০১ সনের ৫৩নং আইন)  ও  সংশোধনী-২০১৬  পাস হয়েছে।

এ সময় আরও বলা হয়, এই আইনের মাধ্যমে, পার্বত্য বাঙালিদের বন্দোবস্তীকৃত ভূমির বন্দোবস্তী বাতিল বা দখলকৃত ভূমি হতে বাঙালিদের উচ্ছেদ করতে পারবে কমিশন (ধারা-৬)। এই কমিশন একটি আদালত, কমিশনের আদেশ আদালতের মত কার্যকরী। কমিশনের আদেশই চূড়ান্ত এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য কোন কোর্টে কোনো আপিল বা রিভিশন করা যাবে না (ধারা- ১৬) । এই আদালতের বিচারক বা প্রতিনিধির মধ্যে পার্বত্য বাঙালির কোনো প্রতিনিধি নাই। ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের মধ্যে তিন জন সদস্যই নৃগোষ্ঠীর সদস্য। তাদের ৩ (তিন) জন সদস্যের সিদ্ধান্তই কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (ধারা- ৭)। কমিশন নিজেদের খেয়াল খুশী মত বিচার করতে পারবে (ধারা-১১)। কমিশন নিজেদের খেয়াল খুশী মত বিচার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না। (ধারা- ২০)। কমিশনের আদেশ না মানলে জরিমানা সহ ১ মাসের জেল। (ধারা-১৯)। কমিশনের সচিব সহ সিংহভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়োগ দিতে হবে নৃগোষ্ঠীর সদস্য হতে। (ধারা- ১৩)। সরকারী সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত ভূমি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানার ভূমি বন্দোবস্তী বাতিল করতে পারবে কমিশন (ধারা-৬ (গ)। এই আইন পার্বত্য বাঙ্গালি জনগণকে বিশেষতঃ ১৯৭৭ সালের পর যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছেন তাদের ভূমির অধিকার কেড়ে নিতে পাস করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার  বলেন‍, “৮ লাখ বাঙালিকে রোহিঙ্গায় পরিনত করতে এই আইন পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমুরের মত স্বাধীন জুম্মল্যান্ডে পরিণত করতে এই আইন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সচেতন হবার এখনি সময়। মুক্তিযুদ্ধ করে ৭১’এ স্বাধীন করা দেশের এক দশমাংশ পূর্ব তিমূর হওয়ার আগেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

অপরদিকে রাঙামাটিতে এসেছেন পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।

শনিবার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারউল হক ও বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা-এনডিসি রাঙামাটিতে পৌঁছেন।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী শনিবার বিকেলে রাঙামাটিতে আসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সভা কক্ষে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা জনিত কারণে রোববারে নির্ধারিত ওই বৈঠক সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য ইতোমধ্যেই চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি, তিন সার্কেল চিফ এর প্রতিনিধি, পার্বত্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পত্রের মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকালে রাঙামাটিতে আসলে সার্কিট হাউসে ভূমি কমিশন চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

এদিকে রোববারের হরতালের সমর্থনে রাঙামাটি শহরে শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের নেতা জাহাঙ্গীর ও নজরুলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরুপা পেট্টোল পাম্প চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।