মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর

যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আদালতের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এই নেতার মৃত্যুদণ্ড গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

 

এর আগে  রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে ঢুকতে দেখা গেছে। এ সময় গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

 

চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণের পর নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার দায়ে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। এটা ছিল কাশিমপুর কারাগারে কোনো যুদ্ধাপরাধীর প্রথম ফাঁসি।
 

তিনি বলেন, “লাশ সুরতহাল শেষে তার স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।”

 

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন মীর কাসেম। তিনি ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা এবং জামায়াতে ইসলামের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন।

 

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেম আলীকে দুটি অভিযোগে ফাঁসি এবং আটটি অভিযোগে সব মিলিয়ে ৭২ বছরের কারাদণ্ড দেন। ফাঁসির দণ্ড দেয়ার পর তাকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়।

 

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল করেন মীর কাসেম। আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৮ মার্চ আপিল বিভাগ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদকে খুনের দায়ে (১১ নম্বর অভিযোগ) ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। মীর কাসেম ১৯ জুন ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন।

 

শুনানি শেষে ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজের রায় ঘোষণা করেন।

 

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ১০ মে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, গত বছরের ২২ নভেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, একই বছর ১৫ এপ্রিল জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।