নূর চৌধুরীকে ফেরাতে জনমত গঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জনমত গড়ে তুলতে সেখানে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

চার দিনের সফরের তৃতীয় দিনে শনিবার সন্ধ্যায় কানাডার সেন্টার মন্ট রয়েলে প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা আওয়ামী লীগের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
 

তিনি বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালত বঙ্গবন্ধুর এই আত্মস্বীকৃত খুনির ফাঁসির রায় দিয়েছেন। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে রায় কার্যকর করে কলঙ্কমোচনের সব চেষ্টাই সরকার করবে।”

 

এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‍“কীভাবে একটি সভ্য দেশ অভিযুক্ত খুনিকে আশ্রয় দিতে পারে?”

 

শেখ হাসিনা বলেন,“আমি আপনাদের সামনে এই দাবি রেখে যাচ্ছি, যে দেশে আপনারা বসবাস করছেন, সেই দেশের জনপ্রতিনিধিদের চিঠি লিখুন এবং এই চেতনাজাগ্রত করুন কেন এসব দেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমামনের হত্যাকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে?”

 

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “যতদূর আমরা জানি, বঙ্গবন্ধুর এক খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আছে। একজন কানাডায়। দুজন পাকিস্তানে এবং অপর দুজন কোথায় আছে সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমরা তাদের আটকের জন্য খুঁজছি।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সরকারকে বলেছে, কেন তারা খুনিদের লালন করছে এবং আশ্রয় দিচ্ছে?”

 

শেখ হাসিনা বলেন, “তারা বলেছে- কানাডার সংবিধানে উল্লেখ আছে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থাকলে তাকে তার দেশে ফেরত পাঠাবে না। এটা কি ধরনের কথা!”

 

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আরো বলেন, পিতা হারানোয় আমি ক্ষতিগ্রস্ত। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে। কেন হত্যাকারীদের রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে?”

 

“যদি এই খুনিরা তাদের দেশের নাগরিক হতো তাহলে সেটি বিষয় হতো। যদি তারা হত্যাকারীদের আশ্রয় দিতে চায়, তাহলে সব হত্যাকারী সেই দেশের আশ্রয় চাইবে। তারা কি তাহলে সব খুনিদের আশ্রয় দেবে?”

 

“এর অর্থ হলো- যে দেশে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান নেই, সেই দেশ হত্যাকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এ জন্য জনমত সৃষ্টিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে আমি এই প্রশ্ন রেখে গেলাম।” -বলেন শেখ হাসিনা।

 

সংবর্ধনা সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার বাধার সম্মুখীন হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে যারা ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে এবং দুলাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে, সেই ঘৃণ্য খুনিদের বিচার বন্ধের জন্য অনেক বড় জায়গা থেকে টেলিফোন পেয়েছি।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি তাদের বলেছি যে, আমাদের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন এবং এখানে আমাদের দেশের আইন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী রায় কার্যকর হবে।”

 

এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানরা যাতে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি আপনাদের সন্তানদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলবো। তারা কী করে, কোথায় যায় এবং তারা কাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশছে? কেউ এটি আশা করে না যে, স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান যাকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে জল্লাদের মতো কাজ করবে।”

 

নাগরিক সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন কানাডা আওয়ামী লীগের নেতা গোলাম মো. মাহমুদ মিয়া।

 

এদিকে চার দিনের কানাডা সফর শেষে আট দিনের সফরে রোববার নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ১৮ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকা সফর করবেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এর মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। বাসস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।