মোদিকে চিঠি না দিয়েই ফিরতে হলো তেল গ্যাস কমিটিকে

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে লেখা খোলা চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখ পড়েছে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

 

আহত হয়েছেন অন্তত ১৫জন। ফলে চিঠি না দিয়েই আজ সোমবারের কর্মসূচি শেষ করে কমিটি। চিঠিটি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল।

 

পুলিশের এ ‘বর্বরোচিত’ হামলার প্রতিবাদে ২০ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করবে কমিটি।

 

আজ বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। সেখানে তাঁরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। এরপর সেখান থেকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাঁরা মিছিল নিয়ে বিজয়নগর, শান্তিনগর হয়ে গুলশানের দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু বেলা একটার পর মৌচাক মোড়ে মিছিলটি পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়।

 

একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা ধ্বস্তাধ্বস্তি হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। এঁদের মধ্যে সজীব নামে ছাত্র ইউনিয়নের এক নেতাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

 

পুলিশের এ বাধাকে অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ।

 

তিনি বলেন, এই চিঠি দিতে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি গণতান্ত্রিক অধিকার। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরছি। পুলিশের এ বাধা বাড়াবাড়ি। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবিতে তাদের কর্মসূচি চলবে বলে তিনি জানান।

 

জাতীয় কমিটির মহানগর নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম দাবি করেন, এ হামলায় তাঁদের অর্ধশত নেতা কর্মী আহত হন। পুলিশ জলকামান থেকে পানি ছোড়ে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছোড়ে।

 

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিদর্শক জাহিদুল বলেন, মিছিলটিকে মালিবাগে থামতে বলা হয়। তাদের বলা হয়, তারা চাইলে একটি প্রতিনিধি দল গিয়ে চিঠিটি দিয়ে আসতে পারেন। এভাবে রাস্তা আটকে মিছিল করলে যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর তারা মালিবাগে পুলিশের অবরোধ অতিক্রম করে এগোতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।

 

এর আগে বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মোদির উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিটি পাঠ করেন আনু মুহাম্মদ। চিঠিতে প্রকল্পটি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি বাংলাদেশে করতেই হয়, তাহলে অন্য কোথাও করা হোক। সেখানে পরিবেশের এত বড় ক্ষতি হবে না। কিন্তু সুন্দরবন একটি। এটিকে ধ্বংস করা চলবে না। তাঁরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্পটি বাতিলের আহ্বান জানান।

 

বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম আহমেদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।