লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে: এরশাদ

“ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায়ে আমরা নিজেদের খুব দুর্ভাগ্যবান মনে করছি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রায়টা পড়ার পর মনে হয়েছে আমরা খুব দুর্ভাগ্যবান। লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে।”

সোমবার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।  ইউনিয়ন ব্যাংকের সভায় এবং একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রাম যান এরশাদ। এ সময় তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ বলেন, “গতবারের মতো একটি নির্বাচন দেশের মানুষ চায় না। আশা করি এবারের নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। নিরপেক্ষ হবে। তবে সেটার সবকিছু নির্ভর করবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর।  তিনি যদি আর্মি চান, সরকার দিতে বাধ্য।  উনি যদি ডিসির পোস্টিং চান, সরকার ডিসির পোস্টিং দিতে বাধ্য। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অসীম ক্ষমতা। তিনি সেই ক্ষমতা খাটাবেন কি না এবং সত্যিকারভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন কি না সেটা নির্ভর করছে তার ওপর।”

তিনি বলেন, “নতুন নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা আছে। আশা করি তারা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবেন।  যদি না পারেন, সেটা নির্বাচনের পর বলা যাবে।”

এরশাদ বলেন, “প্রতিদিন খবরের কাগজ খোলো, খালি ধর্ষণ আর খুন। আর কিছু নেই। আমি সেদিন বলেছি, এ দেশে নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করা একটি মহাপাপ, অভিশাপ। নারীর ক্ষমতায়নের কথা শুনি তা কেবল ঢাকা শহরেই। গ্রামে, গঞ্জে মেয়েরা নিরাপদ নয়। দুঃখ হয়, আমরা তো এই অবস্থায় ছিলাম না।  তাহলে এখন কেন হচ্ছে।”

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “যতদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না ততদিন পর্যন্ত এখানে বাইরের লোক বিনিয়োগ করতে আসতে পারবে না।

“জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, “আমরা কোন অ্যালায়েন্সে নেই। আমরা বিরোধীদল।  যদিও নামমাত্র বিরোধীদল, তবুও আমরা বিরোধীদল।”

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সংসদ সদস্য মাহজাবিন মোরশেদ ও সোলাইমান আলম শেঠ উপস্থিত ছিলেন।