ছাত্রদল ও শ্রমিকদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করছে বলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে এক চিঠিতে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে এই তথ্য জানিয়েছে বিএনপি। নিবন্ধন শর্ত প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা তা জানতে চেয়ে ইসির চিঠির জবাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই তথ্য জানায়।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন থেকে ২০০৯ সালেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরো জানানো হয়, আরপিও’র শর্তাদি প্রতিপালন করা হচ্ছে। দলের সব স্তরে ১৫ শতাংশ মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরো বলা হয়, ২০০৯ সালের বিএনপি’র পঞ্চম কাউন্সিলে ছাত্রদল ও শ্রমিক দলকে অঙ্গসংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আরপিওর নিবন্ধন শর্তাদি প্রতিপালনের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে কিছুদিন সময় চাওয়া হয়েছে চিঠিতে । নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না দিতে পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে: মির্জা ফখরুল
‘সহায়ক সরকার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক যে নামেই হোক আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। কেননা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো তথাকথিত নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন হল রুমে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত বিশেষ জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ করে নির্বাচনকালিন সময়ে দায়িত্বরতদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে। তাহলেই নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে বেশকিছু শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। প্রায় ২৫০০০ হাজার বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ মামলা হয় তুলে নিতে হবে। একান্তু জরুরি না হলে নির্বাচনকালিন মামলা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তত নিজেদের বাচার রাস্তা তৈরি রাখতে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আলাপ আলোচনার উদ্যোগ নিন। দাম্ভিকতা ছেড়ে দিয়ে সংসদ ভেঙ্গে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন। সঙ্কট এড়িয়ে যাবেন না, এতে সঙ্কট আরো বাড়বে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজ মুহূর্তে মুহূর্তে সংবিধানের দোহাই দেন অথচ বর্তমান সংবিধান যারা যেখানে তৈরি সেখানে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত, তারা কী করে জনপ্রতিনিধি হয়? এসময় প্রধান বিচারপতির প্রক্রিয়াকে সাংবিধানিক গুরুতর সঙ্কট বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সবাই দল ও ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষায় দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছি। অথচ বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সচেতনভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। তাই আমরা যদি সে ষড়যন্ত্র বুঝতে না পারি তাহলে দেশকে রক্ষা করতে পারবো না।

তৎকালীন বিডিআর (বিজিবি) বিদ্রোহের ঘটনায় সেনাবাহিনী কর্তৃক পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। কিন্তু এর তো কোনো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। এমনকি সেনাবাহিনীর যে তদন্ত, সেটাও এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হলো না। আরেকটি যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, সেটারও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট আসেনি। এ জিনিসগুলো আমাদের জানার অধিকার আছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এত বড় একটা বিদ্রোহ, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৫৭ জন চৌকস, দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। কখন ঘটেছে, যখন সবে একটি নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। তার পরপরই এটা ঘটেছে। এর উদ্দেশ্য কী ছিল? শুধুই কি সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়া, নাকি বাংলাদেশকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা? ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও খোয়াতে হয়নি। এ ৫৭ জনকে হত্যা করে কে, কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হলো? যারা বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চাইল, যারা সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে চাইল। এ বিষয়গুলো আমাদের অবশ্যই সুষ্ঠু, নির্মোহ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।’

শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান কখনো অন্যায়ের কাছে আপোস করেনি। আজ যখন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিরোধী শক্তি বর্তমান সময়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে দাঁড় করিয়েছে সেখানে তার মতো নেতার উপস্থিতি খুব দরকার ছিলো।

বাংলাদেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচন যতদ্রুত এগিয়ে আসছে ষড়যন্ত্র আরো জোরদার হচ্ছে।

জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপিকা রেহেনা প্রধানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।