মেনন-এরশাদ জনসভার অনুমতি পায়, বিএনপি কেন পায় না

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুর্বঘোষিত সোমবারের সমাবেশের অনুমতি রবিবার রাত পর্যন্ত সরকার দেয়নি জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাশেদ খান মেননের কয়টা লোক আছে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কয়টা লোক আছে? তারা পায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বিএনপি পায় না কেন? সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মালিকানা কি আওয়ামী মহাজোটের? যে তারা করুণা করে দিচ্ছেন? এটাই হচ্ছে জমিদারি মানসিকতা। দেশকে যারা পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করেন তারাই এই ধরনের আচরণ করেন।

 

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূইয়া, খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ। এর আগে পূর্বঘোষিত জনসভার জন্য পুলিশের অনুমতি নিশ্চিত করতে রবিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে যায় বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

 

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবদুস সালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ছিলেন। তারা সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সমাবেশের ব্যাপারে পুলিশ এখনো কিছু জানায়নি।

রিজভী বলেন, আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। রাতের মধ্যে যখনই অনুমতি দেয়া হোক, আমরা সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা সফল করতে সক্ষম হবো।

রিজভী আরো বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় ভয় হলো জনগণ। আর তাই যেকোন জনসমাগম দেখলেই তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি জনসভার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের নিকট আবেদন করেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতির বিষয়ে আমাদেরকে অবহিত করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভারতে যাওয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের ভারতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ আবারও একতরফা নির্বাচন করতে, কোনো ধরনের মাস্টার প্ল্যান করা যায় কিনা, এটাই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য। সে কারণেই তারা যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক। দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিতে না পেরে এদেশের জনসাধারণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের মনের ভাব বুঝতে পেরে সরকার এখন দিশেহারা হয়ে উঠেছে। আরেকটি দেশি-বিদেশি মাস্টারপ্ল্যানের নীল নকশার নির্বাচন করতে এখন তারা বেপরোয়া। দেশনেত্রীর কারামুক্ত হওয়া বিলম্বিত করাও সরকারের কারসাজি।