সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতেই বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি। ২০৪১ সালে দেশ হবে উন্নত যার পরিকল্পনা এখন থেকেই নিতে হবে। সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার সকালে নিজ কার্যালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১-এ ক্ষমতায় আসতে পারলাম না, তখন অর্জনগুলো কীভাবে ধ্বংস হয়ে যায়, সেটা আমরা নিজের চোখে দেখেছি। কাজেই তার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য যত দ্রুত স্থায়ী উন্নতি করা যেতে পারে, সে প্রচেষ্টাই আমরা চালাই। আর সেটা করার জন্য কী কী ধরনের কাজ করতে পারি, আমরা কী কী করলে ভালো হবে, সেগুলো লক্ষ রেখেই কিন্তু আমরা এই যে বার্ষিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে সেটাকে বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি সম্পাদন করার দিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিই। কারণ সরকারি কর্মচারীদের আমি মনে করি তাদের দক্ষতা, দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা একান্তভাবে প্রয়োজন।’

 

দেশের মানুষের কল্যাণই তাঁর রাজনীতির উদ্দেশ্য বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। দক্ষতার সঙ্গে এমডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখায় ধন্যবাদ জানান সরকারি কর্মকর্তাদের। একইভাবে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ও সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। বাধা অতিক্রম করেই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথাও জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমন একটা ব্যাংকের এমডির পদের লোভে যিনি দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় এই পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধা দিতে পারে, এ ধরনের লোকও আমাদের জন্মায়। যারা দেশকে ভাবে না, দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবে না। ব্যক্তিস্বার্থটা যার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সে ধরনের লোকও আছে। এই সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই সমস্ত জঞ্জাল সাফ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এবং আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আজকে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। আর একটা সিদ্ধান্তের পর আপনারা লক্ষ রাখবেন একটা সিদ্ধান্তের পর কিন্তু সারা বিশ্বের মন-মানসিকতা পাল্টে গেছে।’

 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা হয়: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা: দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের সময় অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের সময়েই। নিজেদের ভোগ বিলাস নয়, জনগনের সেবা করাই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেন,দুর্নীতিকে গঠনতন্ত্রে এনে বিএনপি প্রমান করেছে তারা দুর্নীতিই তাদের নীতি।

 

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ উন্নয়নের পথে হাটছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশে কোন ভিক্ষুক থাকবে না। আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। খুব শিগ্রই বাংলাদেশে কোন ভিক্ষুক থাকবেনা বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুদা ও দারিদ্রমুক্ত করার মধ্যমে সুবন্তজয়ন্তী পালন করব। দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হল জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাস ও মাদক। যা বিএনপির সময় সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই দেশকে সন্ত্রাস,মাদক ও জঙ্গিবাদ মুক্ত করার লক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে অভিযান চলছে তা অব্যহত থাকবে বলেও ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী।