‘গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ, অরাজকতা রুখতে প্রস্তুত’ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

‘গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ, অরাজকতা রুখতে প্রস্তুত’



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

গণফোরাম সভাপতি সংবিধান প্রণেতা ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড.কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদে লেখা আছে এদেশের মালিক জনগণ। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে গুম, খুন, হত্যা থেকে রাষ্ট্র মুক্তিপাবে। সেই মুক্তির লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেননা স্বাধীনতার ৪৭ বছর হতে চলেছে। এখন সময় এসেছে ঐক্যকে সুসংহত করা।’

 

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রকৃত যারা প্রতিনিধি, তারাই দেশটা পুনরায় স্বাধীন করবে। এটা সকলের মনের কথা। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। আর নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে, আপনারা আপনাদের প্রকৃত মালিকানা থেকে বাঞ্ছিত হবেন। আর প্রকৃত মালিকানা কার্যকর করার সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রয়োজন।’

 

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে দেশের ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে বলে মন্তব্য করে ড.কামাল হোসেন বলেন, দেশে কোনও অরাজকতা হলে ঐক্যবদ্ধ মানুষেরা তা রুখে দাঁড়াবে।

 

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ড. কামাল বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতি দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। আগামী নির্বাচনকে সফল করতে হলে আপনাদেরকেও পাহারা দিতে হবে। দেশের মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। জনগণের স্বপ্ন যেন বাস্তবে রূপান্তরিত হয়।’

 

জনগণের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনে আপনারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নির্ভয়ে, শঙ্কা বা কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়ে। বিশেষ করে কালো টাকার প্রভাব, সম্প্রদায়িকতার প্রভাব মুক্ত থেকে এবং যারা নির্ভয়ে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবে তাকে ভোট দিবেন।’

 

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘যখনই নির্বাচন দেওয়া হয়। তখনই আমাদেরকে আন্দোলনে নামতে হয়। নির্বাচন কোনও নামকাওস্তা বিষয় না, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর নির্বাচন ভেজাল হলে জনগণ তাদের মালিকানা হারাবে। আপনাদের মালিক হিসেবে দেশের উপর নজর রাখতে হবে।’

 

এর আগে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়া এবং ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনসহ পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে ৯ দফা লক্ষ্যও ঘোষণা করা হয়।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষণাপত্র পড়ে শোনান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব,গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, প্রমুখ।

এদিকে জাতীয় ঐক্যের পূর্ব নির্ধারিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা (বি) চৌধুরী। কর্মসূচিতে আসার পথে মগবাজারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার বিকেলে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা পাঁচ দফা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ৯ দফা লক্ষ্যও ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাপত্র পড়ে শোনান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

জাতীয় ঐক্য পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করবে। এই দাবিগুলো হলো:

 

১. জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। ওই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

 

২. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাক্‌, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

 

৩. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না।

 

৪. নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

 

৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর যুগোপযোগী সংশোধন করতে হবে।

জাতীয় ঐক্য নয়টি লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে, এই লক্ষ্যে তা বলা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো:

 

১. এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।

 

২. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ও দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।

 

৩. বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা।

 

৪. কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা।

 

৫. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত করা।

 

৬. বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

 

৭. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

 

৮. ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা।

 

৯. প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমরসম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ