বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার শর্তে থমকে যাচ্ছে ড. কামালের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া! - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার শর্তে থমকে যাচ্ছে ড. কামালের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া!



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে কি বক্তব্য আসে তার ওপর নির্ভর করবে বিএনপির সাথে ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা না থাকা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী।

এর আগে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যকে এগিয়ে নিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণাসহ একটি সাংগঠনিক ভিত তৈরিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসেন অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা।

বাড়ির দোতলায় বি চৌধুরীর উপস্থিতিতে দলগুলোর নেতাদের বৈঠকের আগে নিচতলায় একটি সভায় বসে মাহির নেতৃত্বে বিকল্প ধারার নেতারা।

বিকল্পধারার ওই সভায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াতকে ছাড়তে বিএনপিকে শর্ত দেয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পরে তারা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠকে যোগ দিয়ে তা উপস্থাপন করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই বৈঠকে ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল –জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন।

তবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মূল নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জামায়াতকে ছাড়তে বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শর্ত দেয়া হয়। তবে বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য করেননি। দলীয় ফোরামা আলোচনা হবে বলে তিনি তাদের জানান।

জানা যায়, যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়নসহ সাংগঠনিক বিষয়াদি দেখভাল করতে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়া এবং আন্দোলনে নামার প্রক্রিয়া অনেক দূর এগোলেও তাদের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার বিকল্প ধারা শর্ত দিয়েছে ।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বারিধারায় বিকল্প ধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিকে এই শর্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে অন্য দলগুলোর মনোভাব এখনো স্পষ্ট নয়। কেননা, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্য দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো এ রকম আনুষ্ঠানিভাবে কোনো আপত্তি আসেনি। যদিও শুরু থেকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপিকে বলা হচ্ছে।

তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিএনপি। ফলে জামায়াতের সঙ্গে ২০ দলীয় জোট বজায় রেখেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে চায় তারা। এখনোই তারা জোটে বিভেদ চায় না। কেননা, ভোটের খাতায় এখনো জামায়াতের যে পরিমাণ ভোট আছে, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্য সব দল মিলে তা হবে না। ফলে বিএনপি অন্যের চাপে এমন ভুল করতে নারাজ।

বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী দল বা ব্যক্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোনো ঐক্য হতে পারে না। বিএনপির সঙ্গে আমরা জাতীয় ঐক্য চাই, তবে এই ঐক্যে আসতে হলে বিএনপিকে অবশ্যই জামায়াতকে ছেড়ে আসতে হবে।

প্রসঙ্গত, কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত হয় বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের; এই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় বিকল্প ধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যকে নিয়ে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটসহ ৫ দফা দাবিতে গত শনিবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যোগ দিয়ে এক সঙ্গে আন্দোলনের কথা বলেছিলেন বিএনপি নেতারা।

বি চৌধুরীর জোট যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব মান্না সেদিন বলেছিলেন, বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হয়েই গেছে। বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলনের কথাও বলেছিলেন তিনি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতকে নিয়ে বিভিন্ন দলের যে আপত্তি ছিল তা বিকল্প ধারার সিদ্ধান্তে তারই প্রকাশ ঘটল। এর ফলে বিএনপি কী করবে তার উপর নির্ভর করবে এই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

পূর্বের সংবাদ