পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের ফরম্যাট সবসময় প্রস্তুত থাকে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের ফরম্যাট সবসময় প্রস্তুত থাকে



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের ফরম্যাট সবসময় প্রস্তুত করা থাকে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সময়মতো বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে সেই ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়। এবারেও পুলিশ তাই করেছে। আওয়ামী সরকার আর কোনোভাবে বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে পারছে না।   মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার এখন ফ্যাসিবাদের উত্তুঙ্গ মাত্রায় পৌঁছে গেছে। ক্ষমতাকে যক্ষ্মের ধনের মতো আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য কুটিল রাজনীতি, ষড়যন্ত্র আর তঞ্চকতাই হচ্ছে আওয়ামী রাজনীতির পরিচিতি।

রিজভী বলেন, সরকারপ্রধানসহ আওয়ামী নেতাদের প্রতিদিনের ভাষা, সংলাপ, জবাব সন্ত্রাসী-ক্রুরতার আস্ফালন ছাড়া অন্য কিছু নয়। যাদের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি পীড়ন আর রক্তপাতনির্ভর, তারা জনমতের ভয় করে না— জবাবদিহি তো দূরে থাক। এমন ধারা-নীতির কারণেই গত পরশু বিএনপির বিশাল জনসমাবেশের পর থেকে সরকার আরও বেশি ক্ষিপ্ত ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে।

‘জনসভা শেষে পাইকারি হারে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পরও সরকারের পরিতৃপ্তি হয়নি। এর পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের তালিকা ধরে তাদের বিরুদ্ধে হাস্যকর মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, হাতিরঝিল থানায় পুলিশের কাজে বাধা ও নাশকতার মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য যথাক্রমে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আমি রুহুল কবির রিজভী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ ৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার ছক ধরে এগোচ্ছে। সারা দেশ নিঃশব্দ ও জনশূন্য করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে গতকাল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা সেটিরই প্রথম পদক্ষেপ।

‘গত পরশু বিএনপির জনসভার পর দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের সচিত্র দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। টেনেহিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে, শার্টের কলার ধরে কীভাবে বিএনপির লোকজনদের পুলিশভ্যানে তোলা হচ্ছে, সেগুলোও মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। অথচ ডাহা মিথ্যা বলা শুরু হলো— বিএনপি নেতাকর্মীরা নাকি পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দিয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা নাকি এতে ইন্ধন দিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের পুলিশ বাহিনী সরকারের গণবিরোধী নীতি জনগণের মধ্যে প্রয়োগ করতে নিষ্ঠাসহকারে হানাদার বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর সে জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। পতন নিশ্চিত জেনেও সরকার বারবার এ ধরনের বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, হাতিরঝিল থানায় করা মামলা বানোয়াট, অসত্য ও নিরেট ষড়যন্ত্রমূলক। আমি দলের পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ক্ষমতাসীনদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে মানমর্যাদা, নীতি ও নৈতিকতার অধিকারী একমাত্র তারাই। এ দেশে আর কোনো গুণী ব্যক্তি নেই- সব গুণের অধিকারী কেবল আওয়ামী নেতা ও মন্ত্রীরাই। শুধু দেশের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলই নয়, বিভিন্ন নিরপেক্ষ পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং মুক্ত চিন্তার লেখক-কলামিস্ট-শিল্পী সবারই নৈতিক মানদণ্ড বিচার করার একমাত্র অধিকারী সরকারের অতিক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা।

রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীনদের যারা সমালোচনা করবে, তারা হবে হীন, অমর্যাদাশালী, অকিঞ্চন, অন্ত্যজ ও ব্রাত্যজন। অন্তত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এমনটিই ভাবছেন। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বলেছেন, সম্পাদক পরিষদের নৈতিকতা বলে কিছু নেই।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিনিয়র সাংবাদিকরাই সম্পাদক পদে উন্নীত হন। তারা সমাজের সঙ্গতি-অসঙ্গতি, শুভ-অশুভসহ নানা বিষয় গণমাধ্যমে প্রতিফলনে প্রধান দায়িত্ব পালন করেন। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতির নানা বিভাজন ও জটিলতা বিচার বিশ্লেষণ করে মানুষকে পথ দেখাতে অভিমত ব্যক্ত করেন।

‘অথচ তথ্য উপদেষ্টার মতে, এসব গুণী ব্যক্তির নৈতিকতা নেই। তা হলে নৈতিকতা আছে কাদের? ভোটারবিহীন সরকারের কী নৈতিকতা আছে? পদ্মা সেতু, শেয়ার মার্কেট, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক লোপাটকারীদের কী নৈতিকতা আছে? যারা কয়লা-পাথর গিলে খেয়েছেন, তাদের কী নৈতিকতা আছে? দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারের নামে প্রহসনকারীদের কী নৈতিকতা আছে?’


এ সম্পর্কিত আরো খবর

রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ