আ.লীগ কারো চাপে বা আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করে সংলাপে বসছে না: কাদের - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আ.লীগ কারো চাপে বা আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করে সংলাপে বসছে না: কাদের



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

আওয়ামী লীগ কারো চাপে বা আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করে সংলাপে বসছে না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সম্পূর্ণ আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতেই সংলাপে বসতে যাচ্ছি আমরা। এই সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হবে। সংলাপে সংকটের বরফ গলবে। যারা সংশয় প্রকাশ করেছিল, সংলাপের মধ্য দিয়ে তাদের সংশয় কেটে যাবে।’

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দেবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। তবে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কারা কারা থাকবেন, তা ঐক্যফ্রন্টই ঠিক করবে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

এই সংলাপ সফল হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে যে চিঠি দিয়েছে, সেখানে তারা সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্য সংযুক্ত করে দিয়েছে।

আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে কিছু আছে সংবিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কিছু রয়েছে আইন-আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কিছু আছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আলোচনার মাধ্যমেই এগুলোর সুরাহা হবে।’

‘যেমন তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চেয়েছে, এটা আমাদেরও বক্তব্য। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন, সরকার শুধু তাদের সহযোগিতা করবে,’ বলছিলেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় সংলাপ অত্যন্ত প্রাণবন্ত, খোলামেলা পরিবেশে এবং সফল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এখানে একদিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং অন্যদিকে ড. কামাল হোসেন অংশ নেবেন, যাকে শেখ হাসিনা সব সময় চাচা বলে ডাকেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা সমুন্নত রাখতেই এই সংলাপ হচ্ছে। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা হবে অত্যন্ত খোলামেলা। এতে কোনো শর্ত থাকবে না।’

‘কোনো কোনো পত্রিকায় দেখলাম আমি নাকি ১০ জনের আসার কথা বলেছি। কোনো কোনো জায়গায় দেখলাম খাবারের মেন্যুও লিখে দিয়েছে। এটি ঠিক নয়। মেহমান আসবেন। আমি যদি সংখ্যা ঠিক করে দিই, সেটা কেমন হয়?’ প্রশ্ন করেন কাদের।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মূলত আমি মোস্তফা মহসিনের কাছে জানতে চেয়েছি আপনারা কয়জন আসবেন। তিনি আমাকে বলেছেন, ১৫ জন হতে পারে। আমি তাঁকে বলেছি, ২০ থেকে ২৫ জন বা যতজন হয়, আপনারা আসুন।’

এর আগে আপনারা বলেছিলেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নয়। এখন হুট করে রাজি হলেন কেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সংলাপ করছি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে, কোনো একক দলের সঙ্গে নয়। তা ছাড়া আগে আমাদের সংলাপ নিয়ে যে কথাগুলো ছিল, সেগুলো দলের পলিসি। এটা তো পরিবর্তনশীল।’

জামায়াতে ইসলামীর লোকজন সংলাপে থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জামায়াতের লোকজনের থাকার সম্ভাবনা দেখছি না। তারা তো রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন হারিয়েছে।’

মাহমুদুর রহমান মান্নার দল নাগরিক ঐক্যেরও নিবন্ধন নেই বলে জানানো হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের কাছ থেকে তালিকা আগে পাই, তারপর দেখা যাবে।’

আগামী ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

সেই সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় যান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। দুই নেতা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান এবং কুশল বিনিময় করেন।

ড. কামাল হোসেন গোলাপের চিঠি গ্রহণ করে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। এ সময় সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুও উপস্থিত ছিলেন।

চিঠি দেওয়া শেষে আবদুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনারা যে সময় চেয়েছেন আলোচনার জন্য, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এক নভেম্বর ২০১৮ গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা উনাদের আমন্ত্রণ করেছেন সন্ধ্যা ৭টায়। সেই পত্রটি আমি সরাসরি ড. কামাল হোসেন সাহেবের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।’

আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে সংলাপে-আলোচনা করা হবে। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে সংলাপে থাকবেন ১৫ জন সদস্য।

মোস্তফা মহসিন মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কয়জন যাচ্ছি এবং কে কে যাচ্ছি, লিস্টা উনারা চেয়েছেন। আমরা লিস্টটা দিয়ে দেবো। আমরা শুধু সাত দফা নয়, সাত দফাসহ অন্যান্য বিষয় এবং বর্তমান যে ইস্যুগুলো আছে, সবগুলো নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রেক্ষাপট তৈরি করার জন্য উনাকে অনুরোধ করব।

এবং এর জন্য উনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যদি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা আমাদের কাছে চান, অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেন সাহেব বিস্তারিত কথা বলতে পারবেন।’


এ সম্পর্কিত আরো খবর

রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ