ঐক্যফ্রন্ট নেতারা কৌশলী প্রচারে কুমিল্লায় আসছে

 একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রচারে ‘কৌশলী’ অবস্থান নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। হামলা-গ্রেফতার এড়াতে প্রার্থীর পক্ষে সিলেটের পর রাজধানীসহ সারা দেশে দল বেঁধে প্রচারে নামছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

এর অংশ হিসেবে আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাবেন নেতারা। পর্যায়ক্রমে তারা সারা দেশ সফর করবেন। ২৪ বা ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারা জনসভা করার পরিকল্পনা করেছেন।

এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি আলাদাভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে। ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে ঐক্যফ্রন্ট ও পরদিন ১৮ ডিসেম্বর হোটেল লেক শোরে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১০ দিনের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর মধ্যে রয়েছে- সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী মাজারে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।

দুপুরে প্রচারে নামবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। রাজধানী মোহাম্মদপুরের টাউন হল থেকে শুরু করে তারা লালবাগ, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাবেন। আগামীকাল সকাল ১০টায় গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তারা প্রচারণা শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর হয়ে তারা ঢাকায় ফিরবেন।

১৬ ডিসেম্বর ভোরে তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুষ্পমাল্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের করা হবে। এতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা থাকবেন।

১৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় হোটেল লেক শোরে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে। ১৯ ডিসেম্বর কাঁচপুর থেকে আবার প্রচারণা শুরু করবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

ওইদিন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী হয়ে তারা চট্টগ্রামে যাবেন। ২০ ডিসেম্বর তারা ঢাকায় ফিরবেন। ২২ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ২৩ ডিসেম্বর বরিশালের উদ্দেশে তারা যাত্রা করবেন। তবে রাজশাহী ও বরিশাল রুটে যাওয়ার পথে কোন কোন জেলায় নেতারা প্রচারে অংশ নেবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তবে সড়ক পথে তারা যাবেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য দেবেন তারা। এছাড়া ২৪ বা ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেট থেকে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন। রাজধানীসহ পর্যায়ক্রমে সারা দেশে প্রচারে অংশ নেবেন নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে ইতিমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের প্রচারের সময় প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে প্রচারে ভিন্ন কৌশল নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে দল বেঁধে শীর্ষ নেতারা সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি সব আসনের প্রার্থীকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ সারা দেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকা বিএনপির এক নেতা বলেন, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন রাজধানীতে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার ঢাকার বাইরে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। সারা দেশে প্রচারে শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা থাকবেন বলেও জানান ওই নেতা।

এদিকে সারা দেশে প্রচার-প্রচারণা সফল করতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আরেক সদস্য বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুটি করে আসনে নির্বাচন করার কারণে অনেক জায়গায়ই তারা প্রচারে যেতে পারবেন না। এছাড়া আ স ম আবদুর রব, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও মাহমুদুর রহমান মান্না নির্বাচন করায় তারাও হয়তো অনেক জায়গায় প্রচারে যেতে পারবেন না। তবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন না করার কারণে তাকে সব সময় পাওয়া যাবে বলে জানান ওই নেতা।