বোর্ড সভায় না যাওয়া দক্ষিণ সিটির ২১ কাউন্সিলরকে শোকজ

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজের এলাকার নানা অসুবিধার বিষয় উত্থাপন করে তার প্রতিকার চাওয়া এবং সামগ্রিক সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে অনুষ্ঠিত হয় বোর্ড সভা। আর এই বোর্ড সভাতে যোগ দিতে অনীহা সিটি কর্পোরশনের কাউন্সিলরদের।

আর এই পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কাজে গতি আনার জন্য বোর্ডসভাকে আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকারের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি। উদ্যোগ নিয়েছে কাউন্সিলরদের বোর্ডসভায় আনার। না আসলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

আর সেই উদ্যোগে এবার পরপর তিনটিসহ বেশক’টি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা ১৯ কাউন্সিলরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ এর ধারা-১৩ এর উপধারা-১ (মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারণ) এ বলা হয়েছে, মেয়র এবং কাউন্সিলর নিজ পদ হতে অপসারণ যোগ্য হবেন, যদি তিনি- যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন।

সেই হিসেবে বোর্ডে অনুপস্থিতির যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখাতে না পারলে ডিএসসিসি মেয়র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলে, সংশ্লিষ্টরা বরখাস্ত হতে পারেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলরদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন থেকে জানালে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুনগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শোকজ পাওয়া কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাকসুদ হোসেন মহসিন (৯টি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত), ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গোলাম হোসেন (৬টি), ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশ্রাফুজ্জামান (১০টি), ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল বাসিত খান (৫ সভা), ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল গোলাম আশরাফ তালুকদার (১২টি), ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান পপি (১২টি), ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (৯ সভা), ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসীম উদ্দিন আহমেদ (৮টি), ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তারিকুল ইসলাম সজীব (১১ সভা), ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনোয়ার পারভেজ বাদল (৮টি), ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসান পিল্লু (১৪ সভা), ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রাসেল (৮টি), ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. বিল্লাল শাহ (১১টি), ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আউয়াল হোসেন (৪টি), ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু (১৫ সভা), ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু (৬ সভা), ৪১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলো (৬ সভা), ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরিফ হোসেন (৯টি), ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিম মিয়া (৫টি) এবং সংরক্ষিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন মণি (১২টি) ও সংরক্ষিত ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিউলী হোসেন (৯টি সভায় অনুপস্থিত)।