আজ পবিত্র আশুরা

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- আজ রোববার পবিত্র আশুরা। আশুরা অর্থ হচ্ছে দশম। অর্থাৎ হিজরী নববর্ষের প্রথম মাস পবিত্র মুহাররমের দশম দিন।এই দিনটিকে মহান আল্লাহ তায়ালা ইতিহাসের অনেক ঘটনা দ্বারা তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত করেছেন। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত অসংখ্য ঘটনার দিন এটি।তবে কারবালায় মহানবী (স.) এর নাতি ইমাম হোসেনে বিয়োগান্ত ঘটনায় এই দিনটি ব্যাপক পরিচিতি দিয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা স্বৈরশাসক ইয়াজিদের বিরুদ্ধ লড়াই করে শহীদ হন তিনি।শুধু মুসলমান নয়, বিশ্বের তাবৎ মানুষের কাছে দিনটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যবহ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশেও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র আশুরা পালিত হয়ে আসছে।

মানব ইতিহাসে বিশাল স্থান দখল করে আছে পবিত্র আশুরা দিবস। মহান আল্লাহ তায়ালা এ দিনেই আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে তাকে বেহেশতে স্থান দিয়েছেন।

হযরত নূহ (আ.) সাড়ে নয় শত বছর ধরে তাওহীদের বাণী প্রচারের পর যখন সে যুগের মানুষ আল্লাহর বিধি-নিষেধ পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তখন নেমে আসে আল্লাহর গযব। ফলে হযরত নূহ (আ.)-এর সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছে। শুধু রক্ষা পেয়েছে তাওহীদে বিশ্বাসী নূহ (আ)-এর অনুসারীরা। পবিত্র আশুরার দিনে মহাপ্লাবনের সময় হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা তাঁর অনুসারীদের নিয়ে জুদি পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। আজো তার ভগ্নাংশের নিদর্শন সেখানে পাওয়া যায়।

পবিত্র আশুরার দিনেই হযরত ইবরাহিম (আ.) তৎকালীন বাদশাহর শত বিধি-নিষেধ আর নজরদারির মধ্যেও জন্মগ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে উদ্ধার লাভ করেন এই দিনে। আবার নিজের প্রাণাধিক পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে আল্লাহর অভিপ্রায়ে জবেহ করতে প্রস্তুত হলে খলীলুল্লাহ বা আল্লাহর বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলেন পবিত্র আশুরার দিনে।

এদিনেই হযরত আইউব (আ.) কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আশুরার পবিত্র দিনেই হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং কাফেরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হলে আল্লাহ তাঁকে চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেন।

এ দিনেই হযরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.) কে ৪০ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন। পবিত্র আশুরার দিনে ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু মূসাকে গ্রহণ করেছিলেন। আবার স্বীয় কওমের লোকজনসহ হযরত মূসা (আ.) নীল নদ অতিক্রম করে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ করেন। পক্ষান্তরে ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে মারা যায়।

পবিত্র আশুরা সমগ্র জাহান সৃষ্টির দিন হিসেবে যেমনি স্বীকৃত তেমনি এদিন কেয়ামত অনুষ্ঠিত হয়ে জগৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। এদিনে এমনি বহু ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং আরো হবে। আল্লাহর মহান নবী-রাসূলগণের বাণী থেকে এসব ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পবিত্র আশুরার দিন মুসলিম জাহানের জন্য যে কারণে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, হৃদয়বিদারক ও স্মরণীয় তা হলো, এদিন স্বৈরাচারী ইয়াজিদ বাহিনী মহানবী (স.)-এর প্রাণাধিক দৌহিত্র অকুতোভয় সৈনিক হযরত ইমাম হোসাইন (রা) কে এবং তার পরিবারের একজন ব্যতীত সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আশুরা উপলক্ষে রোযা পালন করার কথা বলেছেন রাসূল (সা.)। এদিনে কুরআন তিলাওয়াত ও আলোচনার আয়োজন করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদপত্র অফিস ছুটি থাকবে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া শিয়া সম্প্রদায় এদিন উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘সত্য ও ন্যায়ের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচরবৃন্দ এ দিনে কারবালায় শহীদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে আছে।’

তিনি বলেন, ‘পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদেরকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে এবং অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। আশুরা আমাদেরকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম উম্মার ঐক্য ও সংহতি অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘১০ মহররম মহানবী হযরত মুহম্মাদ (স.) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারবর্গ কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মার জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।’

তিনি বলেন, ‘সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।