নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান লাঞ্ছিত, মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মুহুর্মূহ জুতা নিক্ষেপ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান লাঞ্ছিত, মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মুহুর্মূহ জুতা নিক্ষেপ



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- রাজধানীতে লাঞ্ছিত হলেন নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান। “ইসলামে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কথা নেই, এমনকি কুরআনেও এ সম্পর্কিত কোনো আয়াত নেই”-এমন মন্তব্য করায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বায়তুল মোকাররমে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের হাতে  লাঞ্ছিত হন তিনি। ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা মন্ত্রীর এ কথার ব্যাখ্যা দাবি করে হইচই করতে থাকলে মন্ত্রী কোনো রকম ব্যাখ্যা না দিয়ে  উত্তেজিত বক্তব্য রাখলে মুসল্লিরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা এসে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে  নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সাহানে (মূল মসজিদের বাইরের পূর্বদিকের অংশে) একটি আন্তর্জাতিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। ‘ইন্টারন্যাশনাল কোরআন রিসাইটেশন এসোসিয়েশন (ইকরা)’ নামে একটি সংগঠন দেশী-বিদেশী ক্বারীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ইরান, মিশর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাইসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ক্বারীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছেন।

এতে নৌ পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান প্রধান অতিথি ছিলেন। বিকেল তিনটা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হলেও মূল বক্তব্য হয় সন্ধ্যার পর। সেখানে দেশী-বিদেশী কারীদের ক্বেরাত শুনতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। নৌপরিবহণ মন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তিনি বলেন, “ইসলামে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কোনো স্থান নেই। কুরআনে এ সম্পর্কে কোনো আয়াত নেই। রাসুল (সা.) ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করতে না। তিনি এই কাজটি কখনো করেননি।”
তখন মুসল্লিদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান, মুসলমান হিসেবে মন্ত্রী কেন তাহলে রাজনীতি করছেন।

এ সময় নৌমন্ত্রী ওই মুসল্লির প্রতি রাগান্বিত হয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে বক্তব্য অব্যাহত রাখলে উপস্থিত মুসল্লিদের অনেকে দাঁড়িয়ে যান এবং সেখানে চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী এরই মধ্যে তার বক্তব্য অব্যাহত রাখেন। এই অবস্থায় মুসল্লিরা মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মুহুর্মূহ জুতা নিক্ষেপ করতে থাকে। সেখানে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজলসহ আয়োজকরা এতে হতভম্ব হয়ে যান। মন্ত্রীসহ অনেকের গায়ে জুতা গিয়ে পড়তে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন মন্ত্রীকে দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। এ সময় পিছন থেকে মুসল্লিরা  ‘ধর, ধর’ আওয়াজ দিতে থাকে। দ্রুত মন্ত্রীকে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হয়। এর এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ক্বেরাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশস্থ ইরান সংস্কৃতি কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা এবং  ইকরার চেয়ারম্যান ক্বারী  ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, মন্ত্রী প্রথমে ইসলামের ব্যাপারে সুন্দর সুন্দর কথা বললেও ইসলামী রাজনীতির ব্যাপারে কথা বলার সময় তিনি কুরআনে ইসলামে রাজনীতির কোনো আয়াত নেই- এমন দাবি করে বসলেই মূলত: মুলসল্লিরা প্রতিবাদ করেন। আর এতে মন্ত্রী আরো ক্ষিপ্ত হয়ে অনেকটা তাদের প্রতি তেড়ে যাওয়ার মতো করে কথা বলতে থাকেন। আর তখনই গণরোষের শিকার হন। তারা জানান, এসময় সেখানে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাসেমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোন অনুষ্ঠান ছিল না। নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিশৃঙ্খলার  ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন।


পূর্বের সংবাদ