আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ শুক্রবার। ১৪৩৪ বছর আগে এই দিনে ১২ রবিউল আউয়াল আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্ম নেন।৬৩ বছর পর একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এ দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি শোকের।বাংলাদেশে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে। এ দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই মহামানবের জীবনাদর্শের অনুকরণ-অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুহাম্মদ (সা.)- এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সফলতা। আজকের অশান্ত ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত মুখর বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)- এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।’

তিনি এই পবিত্র দিনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- এর আদর্শ অনুসরণ করে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইতিহাসের এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। তাকে বলা হয় সাইয়্যিদুল মুরসালিন। অর্থাৎ সব নবী ও রাসুলের নেতা। তিনি নিখিল বিশ্বের নবী। তার জন্মের সময় আরব দেশ অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ঘোর তমসায় নিমজ্জিত ছিল। এ কারণে ওই সময়কে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগ’।

ওই বর্বর যুগে পৈশাচিক স্বভাবের কালিমাতে মানুষের মানবিক গুণাবলির অপমৃত্যু ঘটেছিল। সে অবস্থা থেকে মানব জাতিকে মুক্তি দিতে মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে পাঠান।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ মহান আল্লাহ পুরো মানবজাতির জন্য সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর, পরিপূর্ণ জীবন বিধান সংবলিত পবিত্রতম আসমানি কিতাব ‘আল কোরআন’ নাযিল করেন মহানবী (সা.)-র ওপর।

প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে সারা মুসলিম বিশ্ব।

বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় দিবসটি পালন করছে। বিভিন্ন সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাব-গম্ভীর পরিবেশে এই দিনটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মহানবী (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন নিয়ে আলোচনা, সমাবেশ, মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত এবং ঢাকা মহানগরীতে ধর্মীয় শোভাযাত্রা।

কর্মসূচি
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন শুক্রবার থেকে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। জাতীয় মসজিদে বাদ মাগরিব ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কোরআন তেলওয়াত, ক্বিরআত, হামদ ও নাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এ উপলক্ষে আজ থেকেই পক্ষকালব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন থাকছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মহানবী (সা.)-এর জীবনীভিত্তিক ক্যালিগ্রাফী প্রদর্শনের আয়োজন থাকছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয় এবং ইসলামিক মিশনের অফিসসমূহে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব শুক্রবার বাদ আসর ক্লাবে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

বিএনপি শুক্রবার বাদ আসর নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম।

এছাড়া একই দিন সকাল ১০টায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গনে এ উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নগরীর ৩৭, শ্যামলীবাগ দরবার শরীফে খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুক্রবার বাদ আসর থেকে এশা পর্যন্ত মিলাদ ও জিকির মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা) উপলক্ষে শুক্রবার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ‘আশেকে রাসূল (স.) সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ মসজিদ মিশন, আশেকানে মাইজভাণ্ডারী অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন এ উপলক্ষে শুক্রবার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।