আসহাবে রাসুলের জীবন কথা

আবু মুসা আশয়ারী (রাঃ):

হযরত আবু মুসা আশয়ারী (রাঃ) ইসলামের পরিচয় লাভ করে ইয়েমেন হতে মক্কায় আসেন এবং রাসুলূল্লাহর (সঃ) হাতে বাইয়াত লাভ করেন। ইনি ছিলেন নিজ খান্দানের অন্যতম নেতা। খান্দানের লোকেরা খুব দ্রুত ও ব্যাপকভাবে তার দাওয়াতে সাড়া প্রদান করেন। তিনি মক্কা ও হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। রাসুলুল্লাহর জীবদ্দশায় যে ৬ জন ব্যাক্তি ফতোয়া দেয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি তাদের অন্যতম। তার জীবন ছিল রাসুলুল্লাহর জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি সর্বদা চেষ্টা করেতেন রাসুলুল্লাহর (সঃ) কথা, কাজ, চলন ইত্যাদি হুবহু অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন। রাত দিনের প্রতিটি মূহুর্ত কুরআন তেলাওয়াত ও কুরআন শিা দানের মাধ্যমে ব্যয় করতেন । ইয়ামানের ওয়ালী থাকা কালে একবার মুয়াজ রাঃ জিজ্ঞাস করেন আপি ন কিভাবে কুরআন তেলাওয়াত করেন ? বললেন রাত দিনে যখনই সময় পাই একটু করে পড়ে নেই। রাসূল সাঃ বলতেন আবু মুসা দাউদ আঃ এর লাহানের কিছু অংশ লাভ করেছে [ দেখুন আসহাবে রাসূল ২য় খন্ড]
সুহাইব ইবনে সিনান আর রুমী (রাঃ)ঃ
সুহাইবকে আর রুমী বলা হলেও তিনি রোমের অধিবাসী ছিলেন না। রাসুলুল্লাহর (সঃ) নবুয়্যত প্রাপ্তি ২ বছর পূর্বে রোমান বাহীনি কর্তৃক নারী, পূরুষ ও শিশুদের একটি দল অপহৃত হন তাদের মধ্যে ছিলেন হযরত সুহাইব (রাঃ)। তিনি রোমের ভূমিতে লালিত পালিত হয়ে যৌবনে পদার্পন করেন। সর্বদা তিনি প্রহর গুনতেন কবে তিনি দাসত্বের শৃংখল থেকে মুক্ত হবেন। মক্কায় এসে তিনি মুহাম্মদ (সঃ) এর দাওয়াতের কথা শুনে উদগ্রীব হয়ে গেলেন দ্বীনের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহনের জন্য। তিনি এবং আম্মার ইবনে ইয়াছির একত্রে ইসলামের দাওয়াত গ্রহন করেন। হযরত শুহাইব (রাঃ) সম্পর্কে হযরত হযরত উমায়ের (রাঃ) এর সুধারনা ছিল। তিনি তাকে গভীরভাবে ভালবাসতেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ওসিয়ত করে যান সুহাইব তার জানাযার ইমামতি করবেন। শুরার সদস্যবৃন্দ যতণ নতুন খলিফার নাম ঘোষণা না করবেন তিন খিলাফতের দায়িত্ব পালন করতে থাকবেন। হযরত ওমর (রাঃ) এর মৃত্যুর পর তিন দিন পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেন।

হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ)ঃ
হযরত আম্মার ও সুমাইয়া একই সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত আম্মার সুমাইয়্যার সন্তান যিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ। মুশরিকরা আম্মারের (রাঃ) উপর অত্যন্ত কঠোর নির্যাতন করতেন। একদিন মুশরিকরা আম্মারকে আগুনের অঙ্গারের উপর শুইয়ে দিয়েছে। এমন সময় রাসূল (সঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে আম্মারের মাথায় পবিত্র হাতটি রেখে বললেন হে আগুন ইব্রাহিমের মতো তুই আম্মারের জন্য ঠান্ডা হয়ে যা। একদিন মুশরিকরা তাকে দীর্ঘণ পানিতে ডুবিয়ে রাখে যে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায় শত্র“রা তার মুখ তেকে তাদের ইচ্ছেমতো স্বীকৃতি আদায় করে নেয়। এরপর কাঁদতে কাঁদতে রসূল(সঃ) এর নিকট হাজির হয়ে বললেন, আজ আপনার শানে কিছু খারাপ ও তাদের উপাস্যদের সম্পর্কে কিছু ভাল না বলা পর্যন্ত আমি মুক্তি পায় নি। রাসূল(সঃ) বললেন তোমার অন্তর কি বলছে? তিনি বললেন আমার অন্তর ঈমানে পরিপূর্ণ। এমতাবস্থায় রাসূল(সঃ) নিম্মোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করেন “যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর কুফরী করে তবে যাদেরকে বাধ্য করা হয় এবং তাদের অন্তর ঈমানের ওপর দৃঢ় তাদের কোন দোষ নেই । (আন নাহল-১৪ )
ইয়ামামার যুদ্ধে আম্মারের দেহ থেকে একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে একজনতো তাকে কান কাটা বলে গালি দিয়েই বসেন।জবাবে তিনি বলেন আফসুস তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় ও উত্তম কানটিকে গালি দিলে যে কানটি আল্লাহর পথে কাটা গিয়েছে।

উসমান ইবনে মাজউন (রাঃ)ঃ
ইসলাম গ্রহনে তিনি ছিলেন চৌদ্দতম। তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুগীরার প্রভাবে (যিনি ছিলেন মুশরিক) দৈহিক অত্যাচার উৎপিড়নের হাত থেকে রেহাই পেতেন। কিন্তু রাসূল(সঃ) ও অন্যান্য সাহাবীদের ওপর যে জুলুম অত্যাচার চলছিল তা দেখে মোটেই সুখী হতে পারলেন না। তিনি ওয়ালিদের কাছে গিয়ে বললেন “ ও হে আবু আবদি শামস তোমার দাযিত্ব তুমি যথাযথ ভাবে পালন করছো। এতদিন আমি তোমার আশ্রয়ে কাটিয়েছি। কিন্তু এখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সঃ) হিফাজতে থাকাই আমি শ্রেয় মনে করি। একটি মজলিসে কবিতা আবৃতি নিয়ে হট্রগোল হল। এতে কুরাইশদের একজন উসমান বিন মাজনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তার ম,ুখে সজোরে এক ঘুসি মেরে দিলেন । এতে তার একটি চোখ রক্তে জাম কালো হয়ে গেল । তখন লোকেরা বলল উসমান তোমি তো ওয়ালিদের আশ্রয়ে বেশ ভালই ছিলে এবং তোমার চোখও এ কষ্ট থেকে নিরাপদ ছিল । জবাবে তিনি বললেন আল্লাহর আশ্রয়ই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও সম্মানজনক । আমার যে চোখটি ভালো আছে সেটিও তার বন্ধুর কষ্টের ভাগী হওয়ার জন্যউদগ্রীব। আমার আল্লাহর আশ্রয়ই যথেষ্ট। আসহাবে রাসূল ২য় খন্ড ২৬পৃ।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) ঃ
-ওমরের পুত্র হযরত ওমরের (নবুয়তের ষষ্ঠ বছরে) ইসলাম গ্রহন করার সময় তার বয়স ছিল ৫ বছর।
-বদর যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল তের বছর জিহাদে যোগদানের জন্য আবেদন জানালেন জিহাদের বয়স না হওয়ার কারণে রাসূল (সঃ) তার আবেদন প্রত্যাখান করেন। ওহুদের যুদ্ধেও তিনি ব্যর্থ হলেন। এরপর হিজরির পঞ্চম সনে খন্দকের যুদ্ধে তিনি জিহাদে গমনের অনমতি লাভ করলেন।
-ষষ্ঠ হিজরীতে হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় তিনি রাসূলুল্লাহর (সঃ) এর সফর সঙ্গী ছিলেন এবং বাইয়াতে রিদওয়ানের সৌভাগ্য লাভ করেন।
-মক্কা বিজয়ের সময়ে ইবনে ওমরের বয়স বিশ। পিতার ওফাতের পর সর্বপ্রথম ইবনে ওমারকে খলীফা নির্বাচনের মজলিসে দেখা যায়। হযরত ওমর অসীয়াত করে যান যে পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের ব্যাপারে আবদুল্লাহ শুধু মাত্র পরামর্শ দাতা হিসেবে কাজ করবে। তাকে খলিফা বানানো যাবে না। কুরআনের সুরা গুলোর উপর গবেষনা করে জীবনের বড় একটা অংশ ব্যয় করেন । কেবল সূরা বাকারার উপর গবেষনা করে ১৪ বছর ব্যয় করেন। একরাতে সম্পূর্ন কুরআন খতম করতেন। প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন সূরা তৈরি করে নিতেন ।তিনি খুবই দানশীল ছিলেন । সব সময় প্রিয় জিনিসটিকে আল্লার পথেব্যয় করতেন । তিনি এত বেশি দাস দাসী আযাদ করতেন যে তার আযাদকৃত দাস দাসীর সংখ্যা ১৫ হাজারের ও বেশি । নিজের প্রশংসা শুনতে খুবই অপছন্দ করতেন । এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করলে তিনি তার মুখে মাটি ছুরে মারলেন ।পথ চলতে কোন ব্যক্তিকে সালাম দিতে ভুলে গেলে ফিরে এসে সালাম দিয়ে যেতেন ।[আসহাবে রাসূল ২য় খন্ড]
আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রাঃ) ঃ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ ছিলেন রাসূল (সঃ) এর ফুফাতো ভাই ও শ্যালক। তিনি ছিলেন সাবেকীন ইলাল ইসলাম বা প্রথম ভাগে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। হিজরীর দ্বিতীয় সনের রজব মাসে রাসূল(সঃ) আটজন সাহাবীর একটি দলকে নির্বাচন করে আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশকে দলের আমীর নিযুক্ত করেন। এভাবে তিনি মুমিনদের একটি দলের প্রথম আমীর হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। রাসূল সাঃ তাকে যাত্রাপথ নির্দেশ করে তাকে একটি চিঠি দিয়ে বললেন দুই দিনের আগে এই টিঠিটা খুলবে না ।দুদিন পথ চলার পর চিঠিটা খুলবে এবং চিঠির নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে। হযরত আব্দুল্লাহ তার সাথীদের নিয়ে মদিনা থেকে রওনা হয়ে গেলেন এবং দুদিন পর চিঠিটা খুলে পড়লেন । চিঠিতে নির্দেশ ছিল মক্কা ও তায়েফের মাঝ খানে নাখলঅ নামক স্থানে পৌছে কুরাইশদের গতিবিধি ও অন্যান্য অবস্থা অবগত হবে । তিনি অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে এ দায়িত্ব মেনে নিলেন । সঙ্গীদের কে সম্বোধন করে তিনি বললেন বন্দুগন আমি রাসূলুল্লার এ দায়িত্ব সম্পাদন করে ছাড়ব । তোমাদের মধ্যে যে শাহাদাতের অভিলাসী সে আমার সাথে যেতে পারে এবং যে তা পছন্দ করো না সে ফিরে যেতে পার । আিিম কাউকে বাধ্য করব না । এ ভাষন শুনে সবাই তার সাথে যেতে সম্মত হলো না । নাখলা পৌছতে তারা কুরাইশদের উপর তীè নজর রাখতে লাগলেন । একদিন কুরাইশদের একটি বানিজ্য কাফেলা কাফেলা এই পথ ধরে যাচ্ছিল । কাফিলাটি আক্রমন করা না করা বিষয় নিয়ে আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ তার সঙ্গীদের সাথে আলোচনা করেন । সেই দিন ছিল হারাম মাসের সর্বশেষ দিন ।প্রাচীনকাল থেকে আরবরা এ মাসগুলিতে যুদ্ধ , বিগ্রহ ও খুন খারাবি নিসিদ্ধ বলে মনে করতো । তারা ভেবে দেখলেন , একদিকে আজ কাফেলাটি আক্রমন করলে হারাম মাসে আক্রমন করা হবে ।অন্যদিকে আজ আক্রমন না করে আগামী কাল করলে কাফেলাটি মক্কার হারামে পৌছে যাবে । মক্কার হারাম সকলের জন্য নিরাপদ স্থান ।সেখানে তাদের আক্রমন করা হলে হারাম মাসে আক্রমন করা হবে । পরামর্শের পর তারা সিদ্ধান্ত গ্রহন কহরলো আক্রমন করার ।

মিকদাদ ইবনে আমর (রা:)
মিকদাদ ইবনে আমর রা: প্রথম পর্যায়ের সাত (৭) ব্যক্তির অন্যতম যারা সেই সন্ত্রাসের মুহূর্তে প্রকাশ্যে নিজেদের ঈমান আনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই সাতজনের মধ্যে অন্য ছয়জন হলেন : রাসুলুল্লাহ (স),আবু বক্কর সিদ্দিক (রা:), আম্মার (রা:), তাঁর মা সুমাইয়া (রা:), সুহাইব (রা:) ও বিল্লাল (রা:)। বদর যুদ্ধে মুসলিম মুজাহিদের মধ্যে মাত্র তিনজন ছিলেন অশ্বারোহী ।মিকদাদ ইবনে আমর ,মুরছেদ ইবনে আবি মুরছেদ ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম বলা হয়ে থাকে মিকদাদই সর্বপ্রথম আল্লাহর রাস্তায় তার ঘোড়া দৌড়িয়েছিলেন ।

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রাঃ)ঃ-
খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করেন মক্কা বিজয়ের অল্প কিছুদিন পূর্বে। রাসূল (সাঃ) তাকে সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তরবারী উপাদিতে ভূষিত করেছেন । ইসলাম গ্রহনের পর সর্বপ্রথম তিনি মুতার অভিযানে অংশগ্রহন করেন।খালিদ (রাঃ) প্রায় ১২৫টি যুদ্বে অংশগ্রহন করেন। যেখানে গেছেন সেখানেই বিজয়ী হয়ে ফিরেফেন। তার উপর রাসূল (সাঃ) এর এতখানি আস্থা ছিল যে তার হাতে পতাকা এলে তিনি নিশ্চন্ত হয়ে যেতেন ।হযরত খালিদ এর জীবনের সবচেয়ে উজ্জল ও গৌরবময় অধ্যায় ‘জিহাদ ফী সাবিল্লিাহ ’- আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ । জীবনের বেশির ভাগ সময় তার রনেেত্র কেটেছে।

খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ)ঃ-
খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) হলেন বিশ্বের ষষ্ট মুসলসান তাই তাকে ‘সাদেকুল ইসলাম’ বলা হয়। তিনি ছিলেন আনমারের দাস। এবং মক্কা থেকে তরবারী নির্মানের কলা কৌশল নিয়ে একটি দোকান দিয়ে তাতে কাজ করতেন। খাব্বাব ইসলাম গ্রহনের পর আর গোপন রাখতে পারলেন্না ।অল্প সময়ের মধ্যে তার এ খবর তার মনিব উুু আনসারের নিকট পৌছে গেলে । তোমার সম্পর্কে আমরা একটি কথা শুনেছি, আমরা তা বিশ্বাস করিনি। তিনি বল্নে কি কথা? শুনেছি তুমি নাকি ধর্ম ত্যাগ করে বনী হাশিমের এক যুবকের অনুসারী হয়েছোৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃ ? তিনি বললেন আমি ধর্ম ত্যাগী হইনি , তবে লা শারিক এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি । তোমাদের মূর্তিপূজা ছেড়ে দিয়েছি, মুহাুদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল (সাঃ) । কথা গুলি শুনামাত্র তারা তার উপর ঝাপিয়ে পরলো এবং দোকানের হাতুড়ি,লোহার পাত ও টুকরা তার উপর ছুড়ে মা লো এতে তিনি সংঞ্জা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলো ,দেহ তার রক্তে রন্জিত হয়ে গেলো । আগুন জালিয়ে পাথর গরম করলো এবং সেই পাথরের ওপর তাকে শুইয়ে দিয়ে একজন তার বুকের উপর পা দিয়ে ঠেসে ধরেন। এভাবে তিনি শুয়ে থাকতেন আর তাঁর দু’ কাধের চর্বি গলে বেয়ে পড়তো। এতে তার পিঠের মাংস উঠে যেত।

আব্দুর রহমান ইবনে আবী বকর (রাঃ) ঃ
হযরত আবু বকর রাঃ সন্তানদের সকলে প্রথম ভাগেই ইসলাম গ্রহন করলেও আবদুর রহমান দীর্ঘদিন পর্যন্ত ইসলাম থেকে দূরে থাকেন । বদর যুদ্বে মক্কার কুরাইশদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিনি একটু সামনে এগিয়ে এসে মুসলমানদের প্রতি চ্যালেঞ্জছুড়ে বললেন :হাল মিন মুবারিজিন –আমার সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধের সাহস দেখাবে এমন কেউ আছে কি? তার এ চ্যালেঞ্জ শুনে পিতা আবু বকর (রাঃ) এর চোখ মুখ লাল হয়ে গেল। তিনি তার সাথে যুদ্ধ করতে রাজি হলেন। কিন্তু রাসুল (সঃ)তাকে বাধা দিলেন। উহুদ যুদ্ধের পর একদিন ছেলে পিতা আবু বকরকে বললেন উহুদের ময়দানে আমি আপনাকে পেয়েও ছেড়ে দিয়ে ছিলাম, জবাবে পিতা আবু বকর বললেন আমি তোমাকে হাতের কাছে পেলে ছেড়ে দিতাম না।

যায়িদ ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
শাহাদাতের তমান্ন্ায় উজ্জিবিত হযরত যায়িদ ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বদর যুদ্ধে গাজি উপাধি লাভ করে উহুদ যুদ্ধে শরিক হন ।তিনি বিজয়ের থেকে নিজের জীবনের বেশী শাহাদাত কামনা করতেন। উহুদে তিনি অসীম সাহসের সাথে কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়ছেন এমন সময় তার ভাই ওমর (রাঃ) খেয়াল করলেন যায়িদের বমৃটি খুলে পড়ে গেছে কিন্তু সেদিকে তার ভ্রুপে নেই। এভাবে সাহাবিরা আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজের জীবনের চেয়ে শাহাদাতকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন।

হযরত উমাইর ইবনে ওয়াহাব (রাঃ)
একদা উমাইর (রাঃ) রাসুলের (সঃ) কাছে আসলেন। রাসুল (সঃ) উমায়েরের এখানে আসার কারন জানতে চাইলেন। উমাইর বন্দীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাক্ত করেন। রাসুল (সঃ) বলেন, তাহলে কাঁধে অস্ত্র কেন? তিনি বললেন সোয়ারী থেকে নামার সময় ঘাড় থেকে নামাতে ভুলে গেছি। রাসুল (সঃ) বলেন, উমাইর আমার কাছে আস এবং সত্য কথাটি বল তুমি কেন এসেছ। তিনি বলেন আমি শুধু বন্দী মুক্তির জন্যই এসেছি। রাসুল (সঃ) বলেন তুমি সাফওয়ানের সাথে কি চুক্তি করেছ? এই প্রশ্নে উমাইর ভীষণ ভয় পেয়ে যান এবং পাল্টা প্রশ্ন করেন কি শর্ত করেছি? রাসুল (সঃ) বললেন, তুমি ও সাফওয়ান কা’বার চত্বরে বসে কালীব কূপে নিপ্তি নিহত কুরাইশ নের্তৃবৃন্দের সম্পর্কে আলোচনা করেছ। তুমি বলেছ যদি আমার ঘাড়ে ঋণের বোঝা এবংপরিজনের দায়িত্ব না থাকত আমি মদীনায় গিয়ে মুহাম্মদকে হত্যা করতাম। তুমি আমাকে হত্যা করবে এই শর্তে সাফওয়ান তোমার সকল দায়িত্ব গ্রহন করেছে। আল্লাহ তোমার ও তোমার উদ্দেশ্যের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে আছেন। উমাইর হতভম্ব হয়ে গেলেন তারপর একটু সচেতন হয়ে বলে উঠলেন- আশহাদু আন্নাকা রাসুলুল্লাহ। আমি ঘোষণা করছি আপনি নিশ্চিত আল্লাহর রাসুল। ইসলামের বিরোধিতায় উমাইর যে শক্তি ব্যায় করেছিলেন তা এখন ইসলামের জন্য ব্যায় করতে লাগলেন।

হযরত আবু রাফে (রাঃ)
আবু রাফে নিজেই বর্ণনা করেছেন, একবার কুরাইশরা আমাকে কোন এক কাজে রাসুল (সঃ) এর নিকট পাঠায়। রাসুলুল্লাাহ (সঃ) কে দেখামাত্রই আমার অন্তর ইসলামের প্রতি ঝুকে পড়ে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমি আর ফিরে যাব না। তিনি বললেন আমি কাসেদ বা দূতকে ঠেকিয়ে রাখি না, প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করি না। এখন তুমি ফিরে যাও। এভাবে যদি কিছুদিন তোমার অন্তরে ইসলামের প্রতি আবেগ বিদ্যমান থাকে তাহলে চলে এসো। তখনকার মত তিনি ফিরে গেলেন এবং কিছুদিন পর আবার ফিরে এসে ইসলাম কবুল করেন।
খাইবার যুদ্ধ সম্পর্কে আবু রাফে বলেন, আমরা আলীর নের্তৃত্বে খাইবার গেলাম। রাসুল (সঃ)Ñ স্বীয় পতাকা আলীর হাতে দিয় খাইবারে পাঠান। আমরা দূর্গের কাছাকাছি গেলে দূর্গের অধিবাসীরা বের হয়ে এসে আমাদের সাথে যুদ্ধ শুরু করল। আলী দূর্গের একটি দরজা ছিড়ে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন। যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত সেটি তার হাতে ছিল। তারপর তিনি তা ফেলে দেন। আমরা ৮ জন প্রাণপন চেষ্টা করেও তা উল্টাতে পারিনি।

হযরত আস’য়াদ ইতনে যুরারা (রাঃ)ঃ
আস’য়াদ ও জাকওয়ানই প্রথম দুই ব্যাক্তি যারা সর্বপ্রথম মদীনায় ইসলামের তাবলীগের কাজ শুরু করেন। তার ঈমানী জযবা ছিল অতি তীব্র। তিনি মদীনায় জামায়াতে নামাযের ব্যবস্থা করেন এবং চল্লিশজন মুসল্লী নিয়ে সর্বপ্রথম জুমআর নামায আদায় শুরু করেন।
হযরত উবাদাতা ইবনুস সাবিত (রাঃ)ঃ
উবাদার জীবনটি ছিল প্রাণরসে ভরপুর। ইসলাম গ্রহন করে মক্কা থেকে ফিরে এসেই সর্বপ্রথম মাকে ইসলামে দীতি করেন। মদীনায় কাব ইবনে আজরা নামে তার ছিল এক অন্তরঙ্গ বন্ধু। তখনও সে অমুসলিম এবং তার বাড়িতে ছিল বিরাট এক মুুর্তি। উবাদার সবসময়ের চিন্তা হল কিভাবে এ বাড়িটি শিরক মুক্ত করা যায়। একদিন সুযোগ বুঝে বাড়িতে ঢুকে মুর্তিটি ভেঙ্গে ফেলেন। অবশেষে আল্লাহ ইচ্ছায় কাব মুসলমান হয়ে যান।
উবাদা ইবনে সামিত হিমসে অবস্থানকালে লাজিকিয়্যা জয় করেন। এই অভিজানে তিনি এক নতুন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করেন। তিনি এমন সব বড় বড় গর্ত খনন করেন যে, তার মধ্যে একজন অশ্বারোহী তার অশ্বসহ অতি সহজে অবস্থান করতে পারে। তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহুুর্তে ছেলেকে অসীয়াত করে বলেন, বেটা তাক্বদীরের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে। অন্যথঅয় ঈমানে কোন কল্যাণ নেই। তাঁর অন্তিম শয্যায় ছাত্র সানাবিহীকে কাদতে দেখে তাকে বললেন, সর্বাবস্থায় আমি সন্তুষ্ট। তুমি কাঁদছ কেন? যদি স্যা দিতে বল, দিব। যদি কারো জন্য শুপারিশ কার তবে তোমার জন্য করব। তার পর বললেন আমার কাছে রাসুলাল্লাহর যত হাদীস সংরতি ছিল সবই তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তবে একটি হাদীস অবশিষ্ট ছিল তা এখন বর্ণনা করছি। হাদীসটি এ পর্যন্ত কারো কাছে বর্ণনা করিনি। আমি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি স্যা দিবে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন। হাদীসটি বর্ণনা করার পরপরই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
আসহাবে রাসূলের ঈমানি দৃঢ়তাঃ
ইয়াসির( রাঃ) ও সুমাইয়া (রাঃ) ইসলামের দাওয়াত পেয়ে ইসলাম গ্রহন করেন।আবু জাহল ও তার সঙ্গীরা ঈমান গ্রহন করার কারনে তাদেরকে দিনের বেলায় লোহার পোষাক পরিয়ে রোধে দাড় করিয়ে রাখে এবং বেদম পিটুনি দেয়। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে যায় তাদের শরীর এবং এক পর্যায়ে ইয়াসির শাহাদাত বরন করেন এবং আবু জাহল সুমাইয়া রা কে ইসলাম ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। তিনি তার কথায় কান না দেয়ার কারনে আবু জাহল তার হাতের বল্লমটি ছুরে মারে তার লজ্জাস্থানে ।এর পরেও তিনি আকড়ে ধরেন ঈমানের ঐশ্বর্য।এরপর সুমাইয়া বিনতে খবরাত (রা )শহীদ হন ,আল্লার সন্তোষ অর্জন করে পৌছে যান জান্নাতের ঠিকানায়।

লুবাইনার (রা) ঈমানী দৃঢ়তাঃ
লুবাইনা রা ছিলেন উমার ইবনে খাত্তাবের (রা) দাসী । তিনি গোপনে ইসলাম গ্রহন করেন। উমার রা তখনও ইসলাম গ্রহন করেননি এবং লুবাইনা রা কে ইসলাম ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এবং চাবুক দিয়ে লুবাইনাকে পিটাতে পিটাতে কান্ত হয়ে যান এবং ঘোষনা করেন তোমাকে পিটানোর মত শক্তি আমার গায়ে নেই। ত বিত দেহ নিয়ে ঈমানের বলে বলিয়ান লুবাইনা ঘোষনা করেন আপনি যদি ইসলাম গ্রহন না করেন আল্লাহ আপনার কাছ থেকে এর প্রতিশোধ নেবেন। নিদারুন যন্ত্রনা ভোগ করা সত্বেও তিনি ইসলাম ত্যাগ করেননি।

উম্মু শুরাইকের(রা) ঈমানী দৃঢ়তা ঃ
মক্কা নগরিতে ইসলামের বানী প্রচার হওয়ার সাথে সাথে উম্মু শুরাইকা রা ইসলাম গ্রহন করেন এবং দাওয়াতি কাজের জন্য বিভিন্ন গোত্রে গোত্রে যেতেন। একদিন মুশরিক নেতারা তাকে গ্রেফতার করে শুকনো রূটি এবং মধু খেতে বাধ্য করে।অতপর তাকে প্রচন্ড রোধে আর গরম রোধের উপর শুইয়ে দেয়। প্রচন্ড রোধে আর গরম বালুর উত্তাপে তিনি ছটপট করতে থাকেন। এক পর্যায়ে এসে তিনি বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলেন । আল্লার প্রতি তার নিখাত ঈমান দেখে তার গোে ত্রর লোকেরা খুবই প্রভাবিত হয়। এক সময় তার গোত্রের লোকেরা তার পদাংক অনুসরন করে ইসলাম গ্রহন করে।
আসহাবে রাসূলের আল কুরআন চর্চাঃ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) কুরআন চর্চা-আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা নবীসাঃ এর নিকট থেকে কুরআন শেখেন। তিনি সুমধুর কন্ঠে আ ল কুরআন অধ্যয়ন করেন। এক দিন আবু বকর আছ সিদ্দিক রা এবং উমার ইবনুল খাত্তাব রাসূল সাঃ এর সাথে গুরূত্বপূর্ন আলাপ সেরে বেরিয়ে আসেন। এক ব্যক্তি মসজিদে দাড়িয়ে সালাতরত অবস্থায় আল কুরআন তেলাওয়াত করছেন। অতপর িিতনি বললেন আল কুরআন যেমন অবতীর্ন হয়েছে তেমন বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করে কেউ যদি আনন্দিত হতে চায় সে যেন ইবনু উম্মুআবদের মত তেলাওয়াত করে।

আছহাবে রাসূলের আত্ম ত্যাগঃ
পুর্ব রোমান সাম্রাজ্যের কাইজার হিরাকিয়াস বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে আল মদিনা ইসলামী রাষ্টের সিরিয়া সিমান্তে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। এর মোকাবেলার জন্য ৩০ হাজার সৈন্যের সেনাবাহিনীর একটি দল গঠন করা হয়। এই সময়ে নবী সাঃ ইনসাফ ফি সাবিলিল্লার আহবান জানালে আবু বকর রাঃ বাড়িতে গিয়ে সব সম্পদ একত্রিত করে এনে নবী সাঃ এর হাতে তুলে দেন, রাসূল সাঃ তাকে জিজ্ঞাসা করেন -পরিবার পরিজনের জন্য কিছু রেখেছ কি? জওয়াবে তিনে বলেন আল্লাহ এবং তার রাসূলই তাদের জন্য যথেষ্ট। এটি আতœ ত্যাগের অতি উজ্জল একটি উদাহরন।

হারিস ও ইকরিমা রা এর আতœ-ত্যাগঃ
রোমানরা বিশাল সেনাবাহিনী সংগঠিত করে সিরিয়ার অন্তর্গত ইয়ারমুক উপতক্যায় মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়। এই যুদ্ধে এক লাখ বিশ হাজার রোমান সৈন্যের সাথে যুদ্ধ করে ২৬ হাজার মুসলিম সৈন্য । যুদ্ধে আহত অবস্থায় পরে ছিল ৩ মুসলিম বীর হরিস ইবনু হিশাম , ইকরিমা ইবনে আলী জাহাল এবং আইয়াশ ইবনে আবী বারীয়া (রা ঃ) । পানি পানি বলে চিৎকার করছিলেন হারিস ইবনু হিশাম (রা) ।একজন মুসলিম সৈন্য এক পেয়ালা পানি নিয়ে ছুটে আসেন তার কাছে । তিনি পানি পান করতে যাবেন , এমন সময় দেখেন ইকরিমা রা তাকিয়ে আছেন পেয়ালার দিকে , হারিস ইবনু হিশাম (রা ) পেয়ারা ধারী সৈনিককে বলেন আগে ইকরিমা কে পানি পান করাও, তিনি তার কাছে গেলেন, ইকরিমা পানি পান করতে যাবেন এমন সময় দেখতে পান আইয়াশ ইবনু আবী রাবীয়া (রাঃ) তাকিয়ে আছেন পেয়ালার দিকে, ইকরিমা রাঃ বললেন আগে আইয়াশকে পানি পান করাও পেয়ালা হাতে সৈনিক আইয়াশ (রাঃ) কাছে পৌছার আগেই তিনি শাহাদাত বরন করেন, সৈনিকটি পানির পেয়ালা হাতে ইকরিমা রা এর কাছে, দেখেন ইকরিমা রাঃ শাহাদাত বরন করেছেন, এবার সৈনিকটি পানির পেয়ালা হাতে ছুটে আসেন হারিস ইবনু হিশামের রাঃ কাছে। দেখেন তিনিও আর বেচে নেই। ইন্তিকালের পূর্বে প্রচন্ড পিপাষায় ছটপট করা কালেও অপর ভাইয়ের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া চাট্টিখানি কথা নয় ।

আছহাবে রাসূলের অল্পেতুষ্টি ঃ
উমার ইবনুল খাত্তাবের (রাঃ) অল্পে তুষ্টিঃ -আবু বকর (রাঃ) ইন্তেকালের পর তিনি হন আল মদিনা রাষ্টের রাষ্ট্র প্রধান। রাষ্টের কাজে যখন ব্যবসাতে যথেষ্ট সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছিল ন্া তখন আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) মাজলিসে শুরার সদস্য দেরকে নিয়ে তাকে বায়তুল মাল থেকে ভাতা গ্রহন করতে অনুরোধ করেন । তিনি বার্ষিক আটশত দিরহাম নিতে সম্মত হন। হিজরী ১৫ সনে বায়তুল মাল বেশ সমৃদ্ধি লাভ করে , তখন সকলের ভাতা বাড়ানো হয়। এই সময় তার ভাতার পরিমান নির্ধারিত হয় পাচ হাজার দিরহাম । এটাও বড়ো কোন অঙ্ক ছিল না।

আলী ইবনু আবী (রাঃ) তালিবের অল্পে তুষ্টি ঃ
রাসূল (সাঃ) এর কন্যার সাথে আলী (রাঃ) এর বিবাহ হলে তাকে পৃথক ঘর নিতে হয়। টুকটাক কাজ করে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার চালাতে থাকেন, তার স্ত্রী নিজ হাতে যাতায় গম পিষতেন, গমের রূটি বানাতেন ও সেকতেন, কুয়া থেকে নিজ হাতে পানি ওঠাতেন। তাদের কোন দাসদাসী ছিল না। উমার ইবনুল খাত্তাবের সময়ে তার জন্য পাচ হাজার দিরহাম নির্ধারিত হয়। আমিনুল মুমিনুল নির্ধারিত হওয়ার পরও তার জীবন ধারন একই রকম ছিল।

মুসআব ইবনু উমাইরের (রাঃ) বীরত্বঃ
হিজরী তৃতীয় সনে মাক্কার মুশরিকদের বাহিনী আল মদিনা আক্রমন করতে এগিয়ে আসে। তাদের সংখ্যা ছিল তিন হাজার, উহুদ প্রান্তরে সাতশ মুজাহিদ নিয়ে তাদের মোকাবেলা করা। এই সময়ে মুসলিম বাহিনীর পতাকা হিল মুস আব ইবনু উমাইরের হাতে। এক অশ্বানেরাহি শত্রƒ সেনা এগিয়ে এসে তার ডান হাতে আঘাত হানে। হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর বাম হাতে আঘাত আনলে বাম হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর দুই বাহু দিয়ে পতাকা আকড়ে ধরে থেকে মুস আব (রাঃ) উচ্চারন করেন -ওয়া মা মুহাম্মদদুন ইল্লা রাসূল ক্াদ খালাত মিন কাবলিহির রসূল। এরপর তার শরীরে তীর নিপে করে তার শরীরে। পতাকাসহ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। শাহাদাত লাভ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।