হেফাজতের অবরোধে কার্যত সারাদেশের সাথে বিচ্ছিন্ন রাজধানী

রাজধানীর ছয় প্রবেশ পথে অবস্থান নিয়েছে তোহিদী জনতা। সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনস্থাপনসহ ১৩ দফা দাবিতে তাদের এই অবস্থান এতে অবরুদ্ধ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা । রোববার ভোর থেকে ঢাকায় প্রবেশের পথগুলোতে হেফাজতের কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। কাউকে গাড়ি নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছেন না তারা। ফলে দেশের অন্য জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে রাজধানীর ভেতরে পরিমাণে কম হলেও গাড়ি চলাচল করছে।

গাবতলী
ভোর থেকেই গাবতলী থেকে শুরু করে আমিনবাজার হয়ে সাভারের বলিয়ারপুর পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার নেতা-কর্মী সড়কে অবস্থান নেন। সকালেই রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে গাবতলী থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছেন। বলিয়ারপুরে ঢাকার বাইরে থেকে আসা যানবাহন আটকে দেয়া হয়। ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা বলিয়ারপুর থেকে হেঁটেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গাবতলী থেকে ঢাকার বাইরে কোনো যানবাহন যেতে দেয়া হচ্ছে না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়ি, সাভারের উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বিভিন্ন যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স এসব যান চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে না। রিকশা চলাচল করছে।
বাবুবাজার
রোববার সকাল ছয়টা থেকে বুড়িগঙ্গা প্রথম ও দ্বিতীয় সেতুতে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা অবরোধ সৃষ্টি করে ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ঢাকার সঙ্গে কেরানীগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর ও খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা।
এদিকে সকাল সাতটা থেকে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুসংলগ্ন কদমতলী মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তারা বাবুবাজার ব্রিজ দখলে নিয়েছেন।
টঙ্গী
উত্তরার জসিম উদ্দীন থেকে গাজীপুরের চৌরাস্তা। দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। পুরোটায় দখলে নিয়েছেন হেফাজতের কর্মীরা। দৃষ্টি যতদূর যায় শুধু লাল সবুজের জাতীয় আর কালেমাখচিত পতাকা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
হেফাজত কর্মীরা জানান, দেশ ও ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণের জন্যই এবারের অবরোধে কালেমা ও জাতীয় পতাকা নিয়ে এসেছেন তারা।
এক হেফাজত কর্মী বলেন, “আমরা কালেমার জন্য যেমন জীবন দিতে পারি প্রয়োজনে দেশের জন্যও জীবন দিতে প্রস্তুত। আমাদের মধ্যে কোনো জামায়াত-শিবির নেই। যুদ্ধাপরাধী নেই। আমরা সবাই নবীর প্রেমিক। তাই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে লাভ নেই।”
রোববার সকাল থেকেই প্রচণ্ড বৃষ্টি আর আবহাওয়ার প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে থাকে আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত। সকাল আটটার মধ্যে লোকসমাগম লক্ষাধিক ছাড়িয়ে গেলে তা ঢাকার রোডে ছড়িয়ে পড়ে।
কাঁচপুর
রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে হেফাজত কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড, সাইনবোর্ড এলাকায় এসে অবস্থান নিয়েছেন। তারা তাদের দাবির সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছেন। হেফাজতকর্মীরা মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ছিল কলেমা লেখা পতাকা।
অবরোধের কারণে এমনিতেই যানচলাচল কম। স্বল্পসংখ্যক যানবাহন মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করলে হেফাজতকর্মীরা সেগুলো ঘুরিয়ে দেয়। তবে তারা কোনো যানবাহন ভাঙচুর করেনি। মহাসড়কে এই মুহূর্তে কোনো যানবাহন চলছে না। হেফাজত কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্স ও সবজিবাহী ভ্যানগাড়িকে বাধা দিচ্ছে না। অ্যাম্বুলেন্সে উঁকি দিয়ে তারা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে সেখানে সত্যিই রোগী আছে কি না। বিপুলসংখ্যক পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিলেও তারা হেফাজত কর্মীদের বাধা দেয়নি।
সাইনবোর্ড এলাকায় সকাল সোয়া ছয়টার মধ্যে কয়েক হাজার হেফাজত কর্মী জড়ো হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারা নারায়ণগঞ্জ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শনিবার রাতেই কাঁচপুর-সাইনবোর্ড এলাকায় বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে হেফাজত কর্মীর সংখ্যাও বাড়ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।