ফাইনালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস

ক্রিস গেইল এসেছেন রেস-টু-ফাইনল ম্যাচ খেলতে। খেললেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে ১১৪ রানের ইনিংস। গ্ল্যাডিয়েটরস উঠে গেল টুর্নামেন্টের ফাইনালে। গেইল পেলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস: ১৯৭/৯ (২০ ওভার)
সিলেট রয়্যালস: ১৯৩/৬ (২০ ওভার)
ফল: ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস চার রানে জয়ী

খেলাটা এত সহজে নিষ্পত্তি হয়নি। টানটান উত্তেজনা ছিল শেষ বল পর্যন্ত। রক্ষে চাপ বেড়েছে বলে বলে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সিলেট রয়্যালস হেরেছে চার রানে। গ্ল্যাডিয়েটরসের ফাইনাল নিশ্চিত হলেও সিলেট বাদ যাবে না। শনিবারের ম্যাচে চিটাগং কিংস এবং দুরন্ত রাজশাহীর মধ্যে যে দল জিতবে তাদের সঙ্গে রোববার খেলবে সিলেট।

শেষ ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। মাশরাফি বিন মুর্তজা বোলিংয়ে। এলটন চিগুম্বুরা পর পর দুই বলে ছয় হাঁকালেন। চার বলে লাগে ১২ রান। এক রান নিয়ে স্ট্রাইক পেলেন মুশফিকুর রহিম। পরের বলেই ক্যাচ দিলেন, কিন্তু নো-বল ডাকায় আউট বাতিল। ফ্রি হিটে দুর্ভাগ্যবশত রান-আউট মুশফিক। চিগুম্বুরা প্রান্ত বদল করলে মুশফিক নিজেকে উৎসর্গ করলেন রান আউট হয়ে। শেষ দুই বলে প্রয়োজন সাত রান। চিগুম্বুরার ক্যাচ ফেলেন রকিবুল হাসান। দুই রান কমে। শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে পারলেই ফাইনাল নিশ্চিত। ধুকপুকানি নিয়ে চিগুম্বুরা সজরে ব্যাট চালালেন, বলটা ডিপ মিড-উইকেটে ধরা পরলো স্টিভেন্সের হাতে। জিতে গেল গ্ল্যাডিয়েটরস।

গ্ল্যাডিয়েটরসের ১৯৭ রানের ইনিংস গেইল ময়। সাকিব আল হাসানের ৩৮ এবং কাইরান পোলার্ডের ১৮ রান ছাড়া তাদের ইনিংসে খেলতেই পারেনি কেউ। সোহাগ গাজী, মো. নবী এবং সাজেদুল ইসলাম দারুণ বোলিং করে শিকার করেন সাত উইকেট। নয় উইকেটে ওই রান করে গ্ল্যাডিয়েটরস।

গেইলের ইনিংসের বর্ণনা দেওয়া অপরিহার্য। প্রথম থেকে আক্রমণাত্মক খেলেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। সেট হতে সময় নিলেন অনেকটা। ২৯টি বল খেলে করেন ২৭ রান। বাকি ৮৭ রান এসেছে ২২ বলে। শেষদিকে কী ব্যাটিংটাই না করলেন। ১৪তম ওভারে সোহরাওয়ার্দীর পাঁচ বল খেলে নিলেন ২৩ রান। ১৭তম ওভারে নাজমুল হোসেন মিলনের ওভার থেকে ২৯ রান পেয়েছে গ্ল্যাডিয়েটস। তার ২৭ রানই গেইলের। চারটি ছয় হাঁকিয়েছেন এই ওভারে। পাঁচ চার ও ১০ ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় তাঁর। সাজঘরে ফেরার আগে হাঁকিয়েছেন আরও দুটো ওভার বাউন্ডারি। বিপিএলের এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছয়ের রেকর্ড গড়লেন এই ম্যাচে। প্রতিযোগিতার গত আসরে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলে দুটি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন গেইল। ইনিংসে সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ডও ছিল তাঁর।

১৯৮ রান তাড়া করতে নেমে লক্ষ্যের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সিলেট রয়্যালস। ব্যক্তিগত ৮৬ রানে মুশফিকের রান আউটটাই কাল হয় তাদের জন্য। ৪৪ বলে ছয় চার ও পাঁচ ছয়ে ইনিংসটি সাজিয়েছেন অধিনায়ক। চিগুম্বুরা ৯ বলে তিন ছক্কায় করেছেন ২৪ রান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।