দ্বিতীয় বারের মত শিরোপা ঘরে তুলে নিল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স

ঢাকা:দ্বিতীয় বারের মত শিরোপা ঘরে তুলে নিল দ্বিতীয় আসরে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল খেলায় চিটাগাং কিংসকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে নিল দলটি। টস হেরে ব্যাট করা ঢাকা প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৭২ রান করেছিলো। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চিটাগং ১৬.৪ ওভারে ১২৯ রানে অলআউট হয়। হার ৪৩ রানের।

বিপিএলের ফাইনাল বলে কথা! মাঠে দর্শক যেমন পূর্ন, তেমনি প্রেস বক্সেও সাংবাদিকে ঠাসা। তবে আর আজ বিদেশী ব্যাটসম্যানদের তাণ্ডব নয়, দেশী ব্যাটসম্যানদের তাণ্ডব দেখা গেছে। রেস টু ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা ক্রিস গেইলের ১১৪ রানের ভর করে ঢাকা সংগ্রহ করেছিল ১৯৭ রান। গেইল চলে গেছেন। তখনই হায় হায় রব উঠে ঢাকা ফাইনালে পারবে তো! কিন্তু দেশীরাই সফলতা দেখালেন।

টস হেরে ব্যাট করা ঢাকার সংগ্রহ করা ১৭২ রানের জবাবে যেভাবে চিটাগাং কিংসরা শুরু করেছিল তাতে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন চিটাগাংকে আগাম ভাবতে বাধ্য হয়েছিলো অনেকে। দলের দুই বিদেশী ওপেনার জেসন রায় ও সিহান জয়াসুরিয়া বেশ ভালো একটি ভিত্তি তৈরি করতে চেস্টা করেন। কিন্তু জয়াসুরিয়া (৫) দলের ২৬ রানে সাঁজ ঘরে দ্রুতই ফেরত যান। ইনজুরির কারণে, একাদশে ছিলেন না আগের ম্যাচের নায়ক নাইম ইসলাম। অপর ওপেনার জেসন রায় খেলটা প্রায় নিজের হাতেই মুঠোবন্দি করে রাখেন।

ঢাকার বোলারদের কোন সুযোগ দিচ্ছিলেন না। ঢাকার ড্রেসিং রুমে তখন গুমোট একটি ভাব বিরাজ করছে। ওয়ান ডাউনে নামা নুরুল হাসানও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছেন। তখনই পেসার মোশারফ রুবেল হাসানকে (১৪) ফেরালেন রান আউটের মধ্যে দিয়ে। তবে চিটাগাং কিংসদের মুল ভরসার নাম তো বোপারা আর রাইয়ান টেন ডয়েসকেট। এ দুই জন সেট হবার পর সাকলাইন সজিব এলবি’র ফাঁদে ফেলেন বোপারাকে (২)। ৫১ থেকে দলের ৬১ রান হতেই ৩ উইকেট পতন! এরপর বাকী থাকে ঢাকার পথের কাটা রাইয়ান টেন ডয়েটকেট। মাত্র ৩ রানের পার্থক্যে দলের ৬৪ রানে রাইয়ান টেনকে (২) মোশারফ রুবেল ফেরত পাঠালে ম্যাচ ঢাকার নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। ৩৭ বলে দরকার ৭০ রান।

মাহমুদুল্লাহ টিকে থেকে দেখছেন আরিফুল ১২ রানে আর দিলহারা ২ রানে কিভাবে ফেরত গেলেন! মাহমুদুল্লাহ ৩৬ রানে। ৭ উইকেটে রান ১১৮। শেষ ৩২ বলে দরকার ৫৫ রান। ওভার প্রতি ১১ করে! হাতে আছে ৩ উইকেট। কিন্তু তখনও মাহমুদুল্লাহ ক্রিজে ছিলেন। ঢাকার আগাম আনন্দ করার উপায় ছিলো না। থমাসের বলে ৪৪ রান করা মাহমুদুল্লাহকে দলের ১২৭ রানের ক্যাচ বানালে আনন্দ করার পথ পেয়ে যায় ঢাকা। শেষ অবদি চিটাগাং কিংস অলআউট হয় ১৬.৪ ওভারে ১২৯ রানে।

মঙ্গলবার বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের ফাইনালে দেশী ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে চড়ে ঢাকা ২০ ওভারে ৯ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৭২ রান। আগের ম্যাচে ১১৪ রান করা গেইল যে নেই তা বুঝতেই দিলেন না সাকিব। টস জিতে বল হাতে তুলে নেয় চিটাগাং কিংস। ব্যাট হাতে ঢাকার ওপেনার দিলশান ২ রানেই ফেরত! মনে হতে পারে আজও বুঝি চিটাগাং সিলেটের মতো ঢাকাকে অল্প রানে বেঁধে ফেলবে! কিন্তু তা হতে দেয়নি আশরাফুল-আনামুল আর সাকিব।

ওপেনার আশরাফুল নিজের মারকুটে রূপে ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন। সঙ্গে আনামুল হক। ১৯ রানে আশরাফুল পেসার রুবেলে বলে ক্যাচ দিলেন ফিল্ডার তাসকিনের হাতে। বল মাটিতে পড়ে যায়, বেঁচে গিয়েও আশরাফুল বেশি দূর যেতে পারলেন না। ২৪ রানে আবারও ক্যাচ দিলেন। এবার আর বাঁচা সম্ভব হল না। আনামুলের সঙ্গী হলেন সাকিব।

২ উইকেটে ৪৯ রান। ৩য় জুটিতে আনামুল আর সাকিব রান বাড়াতে চেষ্টা করছেন। সাকিব ২৪ রানে পেসার রুবেলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। ৪৮ রান যোগ করা হয়ে গেছে এই জুটেতে। ৬টি চার আর ২টি ছয় দিয়ে ৩৬ বলে ৫৮ রান করা আনামুল রুবেলের বলে বোল্ড হলেন। এরপর কিরন পোলার্ড সাকিবকে সঙ্গ দিতে এসে হতাশ করলেন। হার্ড হিটার পোলার্ডকে (৯) ম্যাচে খুঁজেই পাওয়া গেলো না। ঢাকার হয়ে দুই বিদেশী দিলশান ও পোলার্ড ব্যর্থ হলেন। সাকিবের সঙ্গে স্টিভেন ক্রিজে থাকলেও সাকিব ফিফটির কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হলেন। ২৯ বলে ২টি চার আর ২টি ছয় দিয়ে সাকিব ৪১ রানে ফেরত গেলেন ক্যাচ দিয়ে। দলের স্কোর তন ৫ উইকেটে ১৫০ রান। ৩ ওভারে ঢাকার আরও কিছু রান জমা করা দরকার। কারণ, টি২০ ম্যাচ তার উপর বিপিএলের ফাইনাল! তবে তা হলো না। শেষ ৩ ওভারে মাত্র ২২ রান যোগ হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।