টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা শ্রীলংকার

পর পর দুটি শিরোপা ঘরে নিল শ্রীলঙ্কা। দুটি টুর্নামেন্টেই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে লঙ্কানরা। এশিয়া কাপের মতোই হেসেখেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৪-এর শিরোপা জিতে নিয়েছে তারা। ফাইনাল ম্যাচে ভারতের দেয়া ১৩১ রানের ‘মামুলি’ লক্ষ্যে ধীরেসুস্থে ব্যাট করে তারা সহজেই পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। এ জন্য তাদের হারাতে হয়েছে চারটি উইকেট আর খেলতে হয়েছে ১৭. ৫ ওভার। ১৩ বল বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত করে নেয় লঙ্কানরা।

১৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৫ রানে শর্মার বলে সাজঘরে ফিরে যান পেরেরা (৫) এবং অশ্বিনের বলে ৪১ রানে দিলশান (১৮)। এরপর দশম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৬৫ রানে ফিরে যান জয়াবর্ধনে (২৪ বলে ২৪) রাইনার বলে ক্যাচ দিয়ে। দলীয় ৭৮ রানে মিশ্রর বলে আউট হন থিরেমানে (৭)। এরপর আর কোনো উইকেটন খোয়াতে হয়নি তাদের। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাঙ্গাকারা (৫২) ও টি পেরেরা (২১) অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান তুলতে সক্ষম হয়। ফলে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে ১৩১ রানের মামুলি লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই লক্ষ্য সাধারণত খুব কঠিন চ্যালেঞ্জ নয়।

রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে বিলম্বে শুরু হয় ফাইনাল ম্যাচটি। সাতটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে সাতটা ৪০ মিনিটে মাঠে গড়ায়। টসে জিতে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ভারতকে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। দলীয় চার রানে ফিরে যান উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রেহানে। তিনি আট বলে করেন তিন রান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মার সঙ্গে বিরাট কোহলি যোগ দিয়ে দলকে নিয়ে যান ৬৪ রানে। এ সময় হেরাতের বলে সাজঘরে ফেরেন রোহিত শর্মা। তিনি করেন ২৬ বলে ২৯ রান।

এরপর কোহলির সঙ্গে যোগ দেন যুবরাজ। এই জুটি মেরে খেলে দ্রুত দলের স্কোর বাড়াতে থাকেন। তবে সবচেয়ে বেশি মারমুখী ছিলেন বিরাট কোহলি। ৪০ বলে আসে কোহলির ফিফটি। এরপর আরো কিছুক্ষণ এই ধারা বজায় থাকলেও যুবরাজের আউট হওয়ার পর তা থিতিয়ে আসে। ফলে শেষ পাঁচ ওভারে আসে মাত্র ৩৫ রান, যা দলীয় গড় রানের চেয়েও কম। দলীয় ১১৯ রানে যুবরাজ আউট হলে ক্রিজে নামেন অধিনায়ক ধোনি। তিনি ৭ বলে চার রানে অপরাজিত। আর কোহলি শেষ ওভারের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৫৮ বলে ৭৫ রান করেন। ভারত নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে চার উইকেটে ১৩০ রান করতে সক্ষম হয়।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে কুলাসেকারা, ম্যাথি্যুস ও হেরাত একটি করে উইকেট নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।