আইপিএলের শিরোপা মুস্তাফিজদের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে আইপিএলের শিরোপা জিতল মুস্তাফিজদের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৮ রান করে হায়দরাবাদ। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে  ২০০ রানেই থামে গেইল-কোহলিদের ইনিংস।

বিরাট কোহিলি ৩৫ বলে ৫৪ রান করে আউট হন। ফলে ৮ রানের দারুণ এক জয়ে শিরোপা জিতে নেয় মুস্তাফিজদের হায়দরাবাদ। বেন কাটিং ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় আর বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ২০১৬ আইপিএলের উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। আর এবারের আইপিএলের সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার পেয়েছেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক ভিরাট কোহলি।

প্রথমবার ফাইনালে উঠেই আইপিএলের শিরোপা জিতল হায়দরাবাদ। চারশ’ রান ছাড়ানো ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারাল ৮ রানে। তিন বার ফাইনাল খেলেও শিরোপা অধরা থাকল বেঙ্গালুরুর।

খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তটা ছিল বেশ নাটকীয়। শেষ বলে ব্যাটসম্যান স্কুপ শটে বল পাঠালেন বাউন্ডারিতে। কিন্তু বলের দিকে তাকায় কে! বলটি হতেই ডানা মেলে দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। মাঠের সব প্রান্ত থেকে বাকিরাও ছুটে এলেন মাঝে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আনন্দবৃত্ত গড়ে চলল জয়নৃত্য। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ের উৎসব!

ফাইনালে মুস্তাফিজের পারফরম্যান্স অবশ্য দারুণ কিছু ছিল না। ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। এরপরও সবার দৃষ্টি ছিল মুস্তাফিজের দিকেই।

এরপরও ফাইনালটি অবশ্য হয়েছে ঠিক ফাইনালের মতোই। শেষ বল পর্যন্ত উত্তেজনা না থাকলেও শেষ ওভার পর্যন্ত ঠিকই টান টান উত্তেজনা ছিল। শেষ ৫ ওভারে বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ৫১ রান, হাতে ৭ উইকেট। এ অবস্থায় হায়দরাবাদের পক্ষে বাজি ধরার লোক ছিল না খুব বেশি। তবে হায়দরাবাদের হাতে তো দুই দুইটি তুরুপের তাস ছিলই—মুস্তাফিজ ও ভুবনেশ্বর কুমার। শেষ চার ওভারে মুস্তাফিজ ও ভুবনেশ্বর দিলেন যথাক্রমে ১০, ৭, ১২ ও ৯ রান। এই দুজনের বোলিংই নিশ্চিত করে দিল আবারও নিশ্বাস ফেলা দূরত্ব থেকে খালি হাতে ফিরতে হবে বেঙ্গালুরুকে।

অথচ ২০৯ তাড়া করতে নেমে ১০.২ ওভারে বিনা উইকেটেই ১১৪ রান করে ফেলেছিল বেঙ্গালুরু। ফর্ম ফিরে পাওয়ার জন্য ফাইনালকেই বেছে নিলেন গেইল। ৩৮ বলে ৭৬ রান করে গেইল ফেরার পরই মড়ক লাগে বেঙ্গালুরু ইনিংসে। একে একে ফেরেন বিরাট কোহলি( ৫৪) ও এবি ডি ভিলিয়ার্স (৫)। শেষ পর্যন্ত শিরোপাই খুইয়ে বসে তারা।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। বেঙ্গালুরুর সঙ্গে আগের দুই ম্যাচের অতীত অভিজ্ঞতাই হয়তো টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করল ওয়ার্নারকে।

সিদ্ধান্তটি সঠিক প্রমাণ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন ওয়ার্নার। শিখর ধাওয়ানকে নিয়ে ওপেনিং জুটিতেই ৬৩ রান। একটু পরই অবশ্য ধাক্কা, বেশ দ্রুত ফিরে যান ধাওয়ান ও ময়েজেস হেনরিকেস। তবে যুবরাজ সিংকে নিয়ে ঠিকই রানের চাকা সচল রাখেন ওয়ার্নার। ১১ ওভারেই ১০০ পেরোয় হায়দরাবাদ। ৩৮ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৯ রান করা ওয়ার্নার ফিরলেও এক প্রান্তে টিকে ছিলেন যুবরাজ।

তবে ১৪৮ রানের মাথায় যুবরাজও (৩৮) ফিরে গেলে মনে হচ্ছিল পথ হারালো বুঝি হায়দরাবাদ। তারপরই আবির্ভাব বেন কাটিংয়ের। ১৫ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩৯ রানের এক ঝড় তুললেন। সে ঝড়েই শেষ ৩ ওভারে ৫২ রান হায়দরাবাদের। আইপিএলের ফাইনালটি অবশ্য হয়েছে ঠিক ফাইনালের মতোই হয়েছে এমনটিই প্রতিক্রিয়া দর্শক ও ক্রিকেট ভক্তদের।

বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ৩৭ রানের বিনিময়ে একটি উইকেট পেয়েছেন।

যদিও ফাইনালে মুস্তাফিজ খেলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে সংশয় ছিলো। কারণ আগের ম্যাচটিই ইনজুরির কারণে খেলা হয়নি তার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।