টাইগারদের জয়ে ফিরিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতা যা বললেন

হ্যা, তিনি নেতাই। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নেতা। আরো বড় কোনো অভিধা থাকলে সেই নামে তাকে ডাকা যায়। আফগানিস্তানের সাথে তিন টি-টোয়েন্টি আর পরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুই টেস্ট। এক টানা পাঁচ ম্যাচে হার।

 

টানা পাঁচ ম্যচে হারের পর টাইগার বাহিনীর মধ্যে সংশয় কাজ করছিল ওডিআই সিরিজটাও কি জয়শূন্যই যাবে বাংলাদেশের জন্য? কিন্তু না, সে সংশয় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত ওয়ানডের বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজে ফিরেই পরিবর্তন এনে দিয়েছেন সিনিয়র জুনিয়র সব ক্রিকেটারের মনে। বল হাতে বরিবার নিজে নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট।

 

টেস্ট ক্রিকেটে বিবর্ণ বাংলাদেশ গতকালই প্রথম ওয়ানডেতেই উজ্জ্বল রূপে ফিরে এসেছে। আর তাতেই মেঘ কেটে গিয়ে রোদ ঝলমল করে উঠল বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশে। গায়ানায় ৪৮ রানের জয়ে ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা স্বপ্নের মতোই হয়েছে বাংলাদেশের। দুই টেস্টে বাজেভাবে হারার পর যে জয় ড্রেসিং রুমে ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি।

নেতৃত্বে মাশরাফি আছেন বলে হয়তো এমনটা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি যেন এক জাদুর কাঠি। প্রথম ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে আবারো নিজেকে প্রমাণ করলেন ম্যাশ।

ম্যাচ জিতিতে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলছেন, খুব কঠিন ছিল না দলকে উজ্জ্বীবিত করা। সতীর্থদের স্রেফ বলেছেন, নিজেদের উজার করে খেলতে।

 

আসলে দুঃস্বপ্নের মতো কাটানো টেস্ট সিরিজের পর দল ডুবে ছিল হতাশায়। দেশে বিসিবি প্রধানের নানা বিতর্কিত মন্তব্যও দলে জন্ম দিয়েছে নানা প্রতিক্রয়া। সব মিলিয়ে মিইয়ে ছিল দল। জাগানোর কাজটি সহজ হওয়ার কথা নয়।

 

কিন্তু মাশরাফি বলেছেন, যা হয়েছে, তা তো হয়েই গেছে (টেস্ট সিরিজে)। এটা নতুন সিরিজ। শুরুটা ভালো করতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ ঠিক সেটাই হয়েছে। আশা করি এই পারফরম্যান্স আমরা ধরে রাখতে পারব।

 

তিনি বলেন, আমরা জানতাম, শুরুতে ভালো বোলিং করলে এখানে ২৮০ রান তাড়া করা কঠিন। আমাদের চাওয়া ছিল গেইল ও লুইসকে দ্রুত ফেরানো। সেটি হয়েছে। এরপর আমরা চাপটা ধরে রেখেছি।

অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার আগে সেভাবে বোলিং অনুশীলনই করতে পারেননি মাশরাফি। কিন্তু মাঠে তার বোলিংয়ে সেটির কোনো ছাপ ছিল না। লাইন-লেংথ ছিল দুর্দান্ত।

এই জয়টা খুব দরকার ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। নানা সমালোচনার এক কঠোর জবাবও বলা যায় একে। হয়তো পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই জয় নতুন করে রসদ জোগাবে টাইগারদের।