শনিবার ফুলবাড়ীতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’র হরতাল

দিনাজপুর, নভেম্বর ২৩ (খবর তরঙ্গ ডটকম)- তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি  শান্তিপূর্ণ সভা করতে না দেয়া এবং ১৪৪ ধারা জারির প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে । শুক্রবার বিকালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফুলবাড়ীর নিমতলীর মোড়ে মাঠে সভা করেন জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা।

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের তৎপরতা বন্ধ, ফুলবাড়ীর চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নসহ ব্রিটিশ কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে সহায়তা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবিতে এই সমাবেশ ডাকা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ‘শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায়’ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
বিকাল ৫টায় কয়েকহাজার নারী-পুরুষ পুলিশের ঘিরে রাখা সভামঞ্চ দখল করে নেয়। এরপর কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বক্তৃতা শুরু করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। কোনো সংঘর্ষও ঘটেনি।

বক্তৃতার শুরুতে আনু মুহাম্মদ শনিবার ফুলবাড়ীতে হরতাল পালনের ঘোষণা দেন।

২০০৬ সালের ২৬ অগাস্ট ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল এবং উত্তোলনকারী কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে প্রত্যাহারের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মিছিল-সমাবেশে গুলি চালায় পুলিশ। এতে নিহত হন আল আমিন, সালেকীন ও তরিকুল। এছাড়া আহত হন দুই শতাধিক।

ওই ঘটনার পর স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে চুক্তি করে পরিস্থিতি শান্ত করে। চুক্তিতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন না করার কথাও বলা হয়।

ওই সময় স্বাক্ষরিত ৬ দফা চুক্তির মধ্যে আরো ছিল- এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার, নিহতদের স্মরণে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ, গুলিবর্ষণকারীদের শাস্তি দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের সব মামলা প্রত্যাহার।

নিহত ও আহতদের কিছু ক্ষতিপূরণ ও মামলাও প্রত্যাহারের দাবি পূরণ হলেও অন্য দাবিগুলো পূরণ হয়নি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না নিলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূইয়া উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা আহরণের পক্ষে বলে আসছেন।

সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে গত মাসের ১৪ অক্টোবর ফুলবাড়ী কয়লাখনি এলাকায় একাধিক জরিপকাজে এশিয়া এনার্জিকে সহায়তা করার নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানিটি পূর্ববর্তী অনুসন্ধানের কার্যকরিতা, কৃষি সম্ভাব্যতা, জনসংখ্যা, ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত উন্নয়নসহ সমগ্র প্রকল্প সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে চায়। খনিজ অনুসন্ধান লাইসেন্স ও খনি লিজ থাকায় তাদের এসব কাজ করার অধিকার আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।