আগামীকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আগামীকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা,০৩ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- যুদ্ধাপরাধে অভিযোগে গ্রেপ্তার শীর্ষ নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। সোমবার দুপুরে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। জামায়াতের প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই হরতাল কর্মসূচি সফলে জামায়াতের সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে দলটি।

বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুত পালন না করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পায়তারা করছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড এবং সীমাহীন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যাতে বিরোধী দল কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য দমননীতি চালানো হচ্ছে।’

নিবন্ধিত দল হিসেবে জামায়াত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের মেয়াদকালে জামায়াতকে কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে। রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে।’

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই তারা আজ সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় এবং তা পালনের অনুমতি পেতে গত ২৯ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে।’

তিনি জানান, দুর্ভাগ্যজনক সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। উল্টো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর এ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা বাকশাল কায়েম করতে চায়। এজন্য নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি করতে দিচ্ছে না।

আর এজন্য একান্ত বাধ্য হয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি দিতে জামায়াতে ইসলামী বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন ডা. শফিকুর রহমান।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর জামায়াত ইসলামী সোমবার বিকেল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল।

এ ব্যাপারে পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে জামায়াতকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের কাছে দলটি কর্মসূচির নামে নাশকতা করতে পারে এমন তথ্য থাকায় সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়া হয়নি।’

এদিকে, গতকাল রোববার সচিবালয়ে জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির এক সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর জানান, সমাবেশের জন্য জামায়াত কোন আবেদন করেনি।

তিনি আরো বলেন, ‘অনুমোদন না নেয়ায় তাদের সমাবেশ হবে বেআইনি। আর বেআইনি সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।’

তবে জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, তারা গত ২৯ নভেম্বর ডিএমপির কাছে কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে জামায়াতের শীর্ষ আট নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে।

শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে নভেম্বর মাসের শুরু থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করতে গেলে তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দলটির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।


পূর্বের সংবাদ