ইসিকে আ.লীগ:সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন নেই

ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-  ২০০৮ সালের সীমানাতেই নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করে, মাত্র ৪ বছরের মধ্যে সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সংলাপে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের প্রধান সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একথা বলেন। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইসির সংলাপের শেষ দিনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এককভাবে দলটিকে সংলাপে ডাকায় ইসিকে ধন্যবাদ জানায় দলটি।

সাজেদা চৌধুরী আরো বলেন, যেখানে ১০ বছর পর পর আদমশুমারী হয়ে থাকে, সেখানে সীমানা পুনর্নির্ধারণ মাত্র চার বছরের মধ্যে হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।

গাজীপুর ও টাঙ্গাইল নির্বাচনে ইসির সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ইসিকে অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা করে আসছে। আগামী দিনেও ইসির সকল কাজে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেন সংসদ উপনেতা।

এ পর্যন্ত সাতটি উপনির্বাচন, ছয় হাজার স্থানীয় নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ অতি দ্রুত ও সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করায় ইসিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সংলাপে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, গাজীপুর ও ঘাটাইলে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেউ বলতে পারবে না যে কোনো ধরনের কারচুপি হয়েছে।

তিনি বলেন, চার বছরের মধ্যে সীমানাতে হাত না দেওয়াই ভালো। এতে করে মামলা সহ অন্যান্য ঝামেলা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আপনি এবং আপনার কমিশন এপর্যন্ত যত নির্বাচন করেছেন সবগুলোই সুষ্ঠু এবং সুন্দর হয়েছে। আগামী নির্বাচন সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত করতে পারলে কারো কোনো ধরনের অন্যায় এবং অসত্য আবেদন গ্রহণ করা হবে না।’

উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, ‘এই প্রথম সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। সুতরাং এই কমিশনের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠার কোনো সুযোগ নেই।’

এই নির্বাচন কমিশন সব দিক থেকে স্বাধীন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রয়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই সুষ্ঠু নির্বাচন করছেন।’

সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এই নির্বাচন কমিশনের ন্যায় আর কোনো নির্বাচন কমিশন নেই।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হলো নির্বাচনমুখি দল। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়ায় এই দলটি বিশ্বাস করে।

সংলাপে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় ইসিকে সহযোগিতা করেছে। আমরা আশা করি, সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে।’

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, ড. আলাউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, উপ-দপ্তর সম্পাদক বাবু মৃনাল কান্তি দাস এবং দলের নির্বাচন পর্যবেক্ষক কমিটির সদস্য রশিদুল আলম।

সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিনের নেতৃত্বে অন্য কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে বুধবার সকাল ১১টায় রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করে ইসি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।