তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়ে তিউনিসিয়ার প্রধামন্ত্রী হামাদি জেবালি পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দলের নেতা চোকরি বেলাইদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পর হামাদি নতুন কোয়ালিশন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার দল যদি টেকনোক্রেট কেবিনেটের পরিকল্পনা থেকে সরে না আসে তাহলে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেবেন। প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিরোধী নেতা বেলাইদ হত্যাকাণ্ডের পর গণবিক্ষোভ দেখা দেয়। পরে বুধবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন হামাদি জেবালি।
প্রেসিডেন্ট মোনসেফ মারজুকির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম- নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করবো। আমি সেটাই করেছি।’

নতুন সরকার গঠন করতে না পারাকে হতাশাজনক উল্লেখ করে জেবালি বলেন, জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে তিনি তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক শ্রেণীবিভেদের কারণে জনগণের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। আমরা অবশ্যই তা পুনরুদ্ধার করব। আমার নতুন সরকার গঠনের ব্যর্থতা তিউনিসিয়িা কিংবা তিউনিসিয়ার বিপ্লবের ব্যর্থতা নয়, যা দুই বছর আগে স্বৈরশাসক জয়নাল আবেদিন বেন আলির বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল।’

জাবালি পদত্যাগ করবেন বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা শোনার পর এন্নাহদা দলের নেতা রাশিদ ঘানুচি কোয়ালিশন সরকার গঠনে সব দলকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছিলেন।

বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, এন্নাহদার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এখনও একটি কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্বে দেশ চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে তা আশা করা যায়।

এন্নাহদা’র নেতা ঘানুচি দেশটির প্রেসিডেন্ট মোনসেফ মারজুকির সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছেন নতুন সরকার গঠনের ব্যাপারে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, নতুন নেতৃত্বশূন্যতায় দেশের দ্বন্দ্ব-সংঘাত মিটিয়ে ফেলা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সমর্থকরা বলছেন, বেলাইদ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এন্নাহদা’র দিকে। কিন্তু দলটি তা অস্বীকার করছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে স্বৈরশাসক বেন আলী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে তিউনিসিয়ায় বিরোধী নেতা বেলায়েদ হত্যাকাণ্ডই প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।