কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ কর্তার সাক্ষ্য নেবে দুদক

বাংলাদেশ দুর্নিতি দমন কমিশন দুদক হলমার্কসহ ৬টি প্রতিষ্ঠানের সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের তথ্য উদঘাটনকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার কাছ থেকে সাক্ষ্য নেবে।  দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারীর তথ্য উদঘাটনকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে আগামীকাল মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে।
দুদক এক চিঠি দিয়ে তিন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে চিঠির ভাষা নিয়ে বিব্রত হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা দেশের স্মরণকালের ভয়াবহ ব্যাংক কেলেঙ্কারীর হোতা হলমার্ক গ্রুপের ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেয়া প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার তথ্য উদঘাটন করলেও টাকার গন্তব্য সম্পর্কে আজও তারা অন্ধকারের রয়েছে। এমনকি সোনালী ব্যাংকও জানে না তাদের ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেয়া অর্থ কী কাজে ব্যবহার করেছে আলোচিত এ প্রতিষ্ঠানটি।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে তদন্তও করাও হচ্ছে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, টাকার গন্তব্য সম্পর্কে বিশদ তদন্ত করলেই বের হয়ে যেতো এ বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় গিয়েছে। এতে সোনালী ব্যাংকের অর্থ আদায় করাও সহজ হতো। কিন্তু এ দিকে কেউ তদন্ত করছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক সূত্র জানিয়েছে, বহুল আলোচিত এ ব্যাংক কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি টাকার গন্তব্য স্থল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া খুব জরুরি । কেননা, ব্যাংকের টাকা জনগণের আমানত। ব্যাংকের টাকা খোয়া যাওয়ার অর্থ হলো জনগণের অর্থ খোয়া যাওয়া।

এ অর্থ আদায় করার কৌশল নির্ধারণ করাই এখন সময়ের দাবি। ওই সূত্র জানিয়েছে, সোনালী ব্যাংকের আলোচিত তিনটি শাখা, রূপসী বাংলা, আগারগাঁও ও গুলশান শাখা থেকেই বেরিয়ে গেছে এ অর্থ। এ তিনটি শাখা থেকে ব্যাংক হিসাবের সূত্র ধরে তদন্ত করলেই বেরিয়ে যেতো হলমার্ক গ্রুপ কোথায় টাকা লুকিয়ে রেখেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত এ দিকে পা বাড়াচ্ছে না।

এদিকে, হলমার্ক কেলেঙ্কারীর তথ্য উদঘাটনকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে সাক্ষ্য দিতে দুদক যে চিঠি দিয়েছে, তা নিয়ে বিব্রত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সাক্ষ্য দিতে নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এধরণের ভাষা তাদেরকে বিব্রত করেছে।

যে সব কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে তারা হলেন- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মনির আহামদ সিকদার, উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন ও সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মনির আহাম্মদ সিকদারকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, শেরাটন শাখা থেকে অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয়ের (আইবিপি) মাধ্যমে ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। আগামী ২৬  ফেব্রুয়ারি দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। নির্দিষ্ট সময়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ বা শাস্তিমূলক  ব্যবস্থ নেওয়া হবে। আর অন্য দু’জনকে বিকেল সাড়ে তিনটায় সেখানে গিয়ে এই বিষয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।