বাধা ডিঙিয়ে ঢাকা অভিমুখে ইসলামপন্থিদের জনস্রোত

হেফাজতে ইসলামের ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি ঠেকাতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইসলাম ও মহানবী মুহাম্মদের (সা.) প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিচার দাবিতে ঘোষিত ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি।  তবে সব বাধা উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে ঢাকা অভিমুখে আসা শুরু করেছেন ইসলামপন্থিরা।

‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি বিরোধিরা বিকেল থেকে অবরোধ শুরুর কথা বললেও ১২ ঘণ্টা আগে শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু করে দেয়া হয়েছে অবরোধ। প্রশাসনযন্ত্র আর শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে রাজধানী ঢাকাকে।

চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, বরিশালসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে ঢাকামুখী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বরিশাল থেকে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ফেরি চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর এসব কাজে অজুহাত দেয়া হয়েছে নিরাপত্তার।

মূলত ঢাকাগামী হেফাজতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ঠেকানোর জন্যই এ কৌশল নেয়া হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা যেসব বাস ভাড়া করেছিলেন সেসব বাস মালিকরাও এখন ঢাকায় আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে ঢাকায় আসার চেষ্টা করছেন হেফাজতের কর্মীরা।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক রোমান কবির জানিয়েছন, বাধার মধ্যেও ভোরে চট্টগ্রাম থেকে লংমার্চ শুরু হয়েছে। ৫০টি মাইক্রোবাসের একটি কাফেলা সকালে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন। এছাড়া বিপুলসংখ্যাক নেতাকর্মী জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদে অবস্থান করছেন।

জুমার নামাযের পর তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদে অবস্থানকারীরা বাধা এলে চট্টগ্রাম অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।

খুলনা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি  জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের ভাধা উপেক্ষা করে খুলনা থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন। এরই মধ্যে শুক্রবার ভোরে তিনজন হেফাজত কর্মীকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা পুলিশে দিয়েছে।

দেশের অন্যান্য এলাকার মত রাজশাহী-ঢাকা রুটে শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জিয়াউল গণি সেলিম। তিনি জানান, সন্ধ্যা থেকে হরতাল-অবরোধ শুরু হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দিয়ে কৌশলে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার ভোরে কয়েকটি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও সকাল ৮টার পর থেকে রাজশাহীর ঢাকা টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছাড়েনি। এ অবস্থায় অনেকেই বাস কাউন্টারে এসে দুর্ভোগে পড়েছেন।

কুমিল্লা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকা অভিমুখে লংমার্চে যোগ দিতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় সকালে একত্রিত হয় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। ভোর থেকেই তারা পদুয়ার বাজারে জমায়েত হতে শুরু করে।

এখান থেকে পূর্বে রিজার্ভ করা বাসে ঢাকা যাওযার কথা থাকলেও বাস মালিকরা তাদের বাস দিতে অস্বীকার করে ভাড়ার টাকা ফিরিয়ে দেয়। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- হেফাজতে ইসলামের কুমিল্লা জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল হক, সহ-সভাপতি মাওলানা নোমান ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। পরে পায়ে হেঁটে সকাল ১০টায় ঢাকা অভিমুখে রওনা করে দলটির নেতাকর্মীরা। এটি পদুয়ার বাজার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে রওনা হলে কুমিল্লা বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা যোগ দেয়।

তবে পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা গাড়ি ভাঙচুর হতে পারে ‌এ আশঙ্কায় যানবাহন ছাড়ছেন না।

আমাদের মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা থেকে ঢাকায় আসার একমাত্র নৌ-রুট কাওড়াকান্দি-মাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

একইভাবে বরিশাল, বগুড়া, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের জেলা থেকে ঢাকা রুটের সকল যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।