কাল পবিত্র ঈদুল আযহা, উৎসবে স্বস্তি নেই, উৎকণ্ঠায় দেশ

আর মাত্র একদিন পর পবিত্রঈদুল আযহা। রাজনৈতিক অস্থিরতা পূজা আর ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছে ৷ ২৫ তারিখ কী হবে তা দিয়ে উত্কণ্ঠার শেষ নেই৷ বিরোধী দল হামলা প্রতিরোধে দা-কুড়াল নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে৷ সরকারি দল ছাড়াও মাঠে নামাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷

সোমবার দুর্গাপূজা শেষে বিজয়া দশমীর দিনে ঢাকার পূজা মণ্ডপগুলিতে সব ধর্মের মানুষের ঢল নামলেও তাদের সবার মুখেই ছিল একটি কথা, কী হবে দেশের, কী হবে ২৫ অক্টোবর৷ তাই পুরোহিতও প্রার্থনা করেছেন দেশের শান্তি, সংহতি এবং রাজনৈতিক সুস্থতার জন্য৷

এদিকে কুরবানির ঈদে ঢাকার মানুষ গ্রামে ছুটতে শুরু করেছেন৷ বুধবার উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা৷ তবে যারা প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন আর যারা ঢাকায় থাকছেন – তারা কেউই স্বস্তি পাচ্ছেন না৷ সবার মাথায় একটাই চিন্তা – কী হবে ২৫ অক্টোবর? দেশ ও দেশের মানুষ কোন পরিস্থতির মুখোমুখি হবেন?

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২৫ অক্টোবর হবে ‘ফাইনাল খেলা’৷ ফাইনাল খেলার জনসভায় সাত দিনের প্রস্তুতি নিয়ে নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷ ওদিকে, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ২৫ অক্টোবরের জনসভায় হামলা হতে পারে৷ তাই সবাইকে প্রয়োজনে দা-কুড়াল নিয়ে প্রস্তুত হয়ে আসতে হবে, বলেছেন তিনি৷

অন্যদিকে, একই দিনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ঢাকায় জনসভা ডেকেছে৷ প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের৷ সরকার সে দায়িত্ব পালন করবে৷ প্রসঙ্গত, এদিন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকবেন বলে এর আগে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফর উল্লাহ৷

এ পরিস্থিতিকে আশঙ্কাজনক বলে চিহ্নিত করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, এখন পরস্পরকে দেখে নেয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে৷ সেই সঙ্গে যৌক্তিক আলোচনার আশা শেষ হয়ে যাচ্ছে, যা দেশকে সংঘাতের দিকেই নিয়ে যাবে৷ তিনি বলেন, সাংবিধানিক ব্যখ্যা যাই থাকুক না কেন, সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে হবে সরকারকে৷ কিন্তু সেই নিশ্চয়তা এখনো সরকার দিতে পারছে না৷ অথচ দেশকে সংঘাতের হাত থেকে বাঁচানোর প্রথম দায়িত্ব সরকারের৷

প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, সংবিধানের এত ব্যাখ্যার মারপ্যাঁচের দরকার নেই৷ দরকার হলো নির্বাচন৷ আর সেই নির্বাচন একতরফা হলে হবে না৷ তার কথায়, এখন দুই নেত্রী বসে যদি এর সমাধান না করেন, তাহলে হয়তো সংঘাত আর ঠেকানো যাবে না৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।